নির্বাচনে দলগুলো নারীদের নিয়ে যে ইশতাহার দিয়েছে সেগুলোকে ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক বলে মনে করি। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে যেভাবে নারীদের অবমাননা করার অভিযোগে এসেছে, সেগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। নির্বাচন মানেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সবার অংশগ্রহণ। এটি কখনই লিঙ্গভিত্তিক অপমান বা বিদ্বেষের জায়গা হতে পারে না। অবমাননাকর মন্তব্য বা আচরণ শুধু নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে না, বরং একই সঙ্গে তা গণতান্ত্রিক সমাজের মূল্যবোধকেও আঘাত করে। আমি মনে করি রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের মধ্যেই জবাবদিহি নিশ্চিত করা উচিত। নারীদের নিয়ে এ ধরনের বিরূপ মতবাদ নারীদের নেতৃস্থানীয় পদে আসার ক্ষেত্রে পিছপা হতে বাধ্য করে। তাদের প্রতি সংবেদনশীল হওয়া উচিত। নির্বাচিত হয়ে যে সরকারই আসুক, প্রত্যাশা থাকবে তারা নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগ ও বিচার প্রক্রিয়া আরো শক্তিশালী করবে।

শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য সমান সুযোগ এবং সমান মজুরি নিশ্চিত করবে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ আরো বাড়ানোর ব্যবস্থা করবে। এজন্য শুধু সংরক্ষিত আসনে নয়, সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বেও নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। এছাড়া বর্তমানে নারীদের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে হয়রানি ও সহিংসতা। আশা করি যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন, তারা নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হয়রানি রোধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও তার বাস্তব প্রয়োগ করবে। কারণ এখনো অনেক নীতিমালা আছে, কিন্তু সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ নেই। একই সঙ্গে গ্রাম ও প্রান্তিক পর্যায়ে যেসব নারী তুলনামূলক পিছিয়ে আছেন, তাদের জন্যও আগামী সরকারের কাছে বিশেষ উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন কর্মসূচির প্রত্যাশা থাকবে।