দীর্ঘদিন পর হলেও দালালমুক্ত করা হয়েছে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট, কাস্টমস ও পুলিশ ইমিগ্রেশন। চলতি বছরের শুরু থেকেই বহিরাগতদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তবে চলতি মাসের শুরু থেকে জোরদার করা হয়েছে এ নিষেধাজ্ঞা। বহিরাগতদের পাশাপাশি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে শ্রমিকদের প্রবেশও। ভারত গমনাগমনকারী পাসপোর্টধারী যাত্রী হয়রানি বন্ধে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে পাসপোর্টধারী যাত্রী ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন টার্মিনালে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।
যাত্রী হয়রানি বন্ধে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার আব্দুর রশীদ মিয়ার নেতৃতে এরই মধ্যে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনকে দালালমুক্ত করতে প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক স্ক্যানিং মেশিন ও সিসি ক্যামেরা। সশস্ত্র আনসার দিয়ে জোরদার করা হয়েছে যাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। টার্মিনালের প্রধান ফটকে বন্দরের নিরাপত্তাকর্মী, আনসার সদস্য ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে প্রবেশ করতে পারছে না পাসপোর্ট দালালরা।
কাস্টমস সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোল চেকপোস্টে একশ্রেণীর লোক দূরদূরান্ত থেকে আসা পাসপোর্ট যাত্রীদের নানাভাবে হয়রানি করে আসছিল। সিরিয়াল ছাড়া তাদের পাসপোর্ট দ্রুত করে দেয়ার নাম করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল চক্রটি। পাসপোর্টধারী যাত্রীদের পক্ষ থেকে কাস্টমসে অভিযোগ করা হলে চেকপোস্ট কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনকে দালালমুক্ত করার ঘোষণা দেয়া হয়। যাত্রীদের সেবার মানোন্নত করতে চেকপোস্ট প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের বহিরাগত দালাল উত্খাতে এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে টার্মিনাল এলাকায় বহিরাগত কোনো দালাল ঢুকতে না পারে সে জন্য প্রতিনিয়ত তদারকি করা হচ্ছে।
এদিকে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে (বর্ডার কার্গো জিরো পয়েন্টে) বহিরাগত অনুপ্রবেশ বন্ধ ও পাসপোর্টযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ৩১ মে চেকপোস্ট প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল সম্মেলন কক্ষে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) মো. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কাস্টমস, ইমিগ্রেশন ও
গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন এলাকায় বহিরাগত কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। পোর্টের হ্যান্ডলিং শ্রমিকরা তাদের সীমানার মধ্যে যাত্রীদের ব্যাগেজ বহন করতে পারবেন। কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন এলাকায় যাত্রীরা নিজেরাই ট্রলি ব্যবহার করে যাতায়াত করবেন। শ্রমিকরা যাতে পাসপোর্টযাত্রীদের হয়রানি করতে না পারে সেদিকে নজর রাখা হবে। চেকপোস্টে একটি যাত্রী হেলপ ডেস্ক স্থাপন করা হবে। যাতে যাত্রীরা তাদের যাতায়াতে সর্বত্র সেবা পান। খাবার, সুপেয় পানি ও পর্যাপ্ত ট্রলির ব্যবস্থা করা হবে। সেই সঙ্গে অসুস্থ ও বয়স্ক যাত্রীরা যাতায়াতের জন্য পাবেন হুইলচেয়ার।
বেনাপোল চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনের ওসি মোহাম্মাদ রাজু জানান, বর্তমানে প্রতিটি যাত্রীকে সিরিয়ালে দাঁড় করিয়ে তাদের পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে। যাত্রীসেবা বাড়াতে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে এরই মধ্যে কাউন্টার বাড়ানো হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা কাউন্টারে সেবা দেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউজের যুগ্ম কমিশনার আব্দুর রশীদ মিয়া জানান, বর্তমানে চেকপোস্ট কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনকে দালালমুক্ত করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করতে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছে। বর্তমানে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া নিরাপদে যাত্রীরা ভারত গমনাগমন করছেন।










