স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের আবারো বঞ্চিত রেখেই সুবিধাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিসট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। তারা বিগত বছরগুলোতে অন্যায়ভাবে পদোন্নতি ও বঞ্চনার শিকার সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দ্রুত পদোন্নতি দিয়ে উপযুক্ত পদে পদায়ন করার দাবি জানায়।
বুধবার (১৪ আগস্ট) বাংলাদেশ অ্যাডমিনিসট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বৈরাচারী সরকারের পতনের এক সপ্তাহ অতিক্রান্ত হলেও জনপ্রশাসনে তাদের দোসররাই দোর্দণ্ড প্রতাপে প্রশাসনের কলকাঠি নাড়ছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনের দর্শন ও জন-আকাঙ্খার প্রতিফলন হিসেবে নিরপেক্ষ, দক্ষ ও পেশাদার জনপ্রশাসন গড়ে তোলার প্রতিপক্ষ হিসেবে তারা পুনঃআভির্ভূত হয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, জনপ্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে সাজানোর পরিবর্তে বিগত অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী সরকারের দোসর এবং ছাত্র জনতার ন্যায় সঙ্গত আন্দোলনে বাঁধাদানকারী এবং ছাত্র হত্যার মদদ দানকারী কর্মকর্তাদের দিয়েই জনপ্রশাসন সাজানোর পাঁয়তারা চলছে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফসল এবং আপামর জনগণের আকাঙ্খার প্রতিফলন হিসেবে গঠিত অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন এবং পতিত সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে তারা জনপ্রশাসন ঢেলে সাজানোর নামে তাদেরই মদদপুষ্ট কর্মকর্তাদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পদায়ন করছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের দাবীর প্রেক্ষিতে এখনো পদত্যাগ করছেন না কোন সচিব। বরং গত ৩ আগস্ট সচিব সভায় যেসকল সচিব বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে দমন করার শপথ গ্রহণ করেছেন এবং স্বৈরাচারী সরকারকে সার্বিক সহযোগিতা করার অঙ্গীকার করেছেন তারা এখনো বহাল আছেন। বিভিন্ন পর্যায়ে ঘাপটি মেরে বসে থাকা বর্ণচোরা দলদাস কর্মকর্তাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে এখনো সরিয়ে দেওয়া হয়নি। ফলে শত শত শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত দ্বিতীয় স্বাধীনতা উক্ত মহল বিশেষের চক্রান্তে নস্যাৎ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে তারা উল্লেখ করেন, বিগত ১৬ বছরে অন্যায়ভাবে পদোন্নতি ও বঞ্চনার শিকার সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি এবং পদায়ন না করে বিগত সরকারের আমলে সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের পদায়ন এবং পদোন্নতি বঞ্চিতদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির ষড়যন্ত্রকে কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করার ফলে কোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির উদ্ভব হলে তার দায়দায়িত্ব অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী সরকারের দোসর কর্মকর্তাদেরই বহন করতে হবে।










