চীন বাংলাদেশের তাজা আম আমদানির প্রক্রিয়া দ্রুততর করছে। আশা করা যাচ্ছে, এ বাণিজ্য চলতি বছরের মে মাসে শুরু হবে।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) চীনা দূতাবাসে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেছেন রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এ সময় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি তিস্তা প্রকল্প নিয়েও কথা বলেছেন।

ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ থেকে তাজা আম আমদানির প্রক্রিয়া চীন দ্রুততর করছে। আশা করা যাচ্ছে, চলতি বছরের মে মাসে বাণিজ্য শুরু হবে। চীন বাংলাদেশ থেকে পেয়ারা, কাঁঠাল এবং জলজ পণ্যও আমদানি করার পরিকল্পনা করছে। সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা পরিদর্শন ও কোয়ারেন্টাইন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় শর্তাবলী পাঠিয়েছি। তাদের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় আছি। সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে। চীন আশা করে অভ্যন্তরীণ বাকি প্রক্রিয়াগুলো বাংলাদেশ দ্রুত শেষ করবে, যাতে বাণিজ্যিক চুক্তি দ্রুত স্বাক্ষরিত হয়।

বক্তব্যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সাম্প্রতিক সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ রাষ্ট্রদূত বলেন, সফরের সময় উভয় পক্ষ বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতা, আঞ্চলিক সংযুক্তি এবং রোহিঙ্গা সমস্যাসহ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়গুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ঐক্যমত্যে পৌঁছেছে। উভয় দেশ জাতিসংঘ ও অন্যান্য বহুপাক্ষিক ফোরামে অবস্থান সমন্বয় করতে এবং সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা এখন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরো বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছেছে। উভয় পক্ষ বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা, উন্নয়নশীল দেশগুলোর যৌথ স্বার্থ সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও সুবিচার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আরো উন্নয়নের জন্য একটি দৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করেছে। এটি অবশ্যই চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতাকে নতুন দিগন্তে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, গত আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৩টি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশী অংশীদারদের সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। মোট প্রত্যাশিত বিনিয়োগ প্রায় ২৩ কোটি মার্কিন ডলার। এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের প্রতি চীনের আস্থা ও সমর্থনকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিফলিত করে। বর্তমানে ৩০টিরও বেশি কোম্পানি চট্টগ্রামে চীন অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার মোট বিনিয়োগ এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। চীন আশা করে অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত শিল্পাঞ্চল প্রকল্প অনুমোদন করবে এবং ডিজিটাল অর্থনীতি, সবুজ অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য শক্তি, কৃষি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ নতুন নতুন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে। চীন আরো বেশি চীনা প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সমৃদ্ধি অর্জনে উৎসাহিত করবে।

এ বছর চীন ও বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের জন্য একাধিক কর্মসূচি আয়োজন করবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে প্রস্তুত, যাতে এ ৫০তম বার্ষিকী আমাদের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের নতুন সূচনা বিন্দু হয়ে ওঠে। কৌশলগত যোগাযোগ শক্তিশালী করা, বাস্তব সহযোগিতা গভীর করা এবং মানসম্পন্ন বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে চীন-বাংলাদেশ সামগ্রিক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে। আমরা চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের পরবর্তী স্বর্ণযুগের দিকে যাত্রা শুরু করতে প্রস্তুত।