সাবেক সিএসপি (১৯৫৮ ব্যাচ) কর্মকর্তা, সচিব ও রাষ্ট্রদূত এম মুনির-উজ-জামান মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল দুপুর ২টায় রাজধানীর নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত জটিলতায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।
এম মুনির-উজ-জামানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে তার পরিবার।
গুলশান আজাদ মসজিদে আজ জুমার নামাজের পর মুনির-উজ-জামানের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জানাজা হবে যশোরের ৪৭ জেল রোডে, আগামীকাল জোহরের নামাজের পর। চৌগাজার জগদীশপুর গ্রামে আসরের নামাজের পর হবে তৃতীয় জানাজা। এর পর পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত হবেন এম মুনির-উজ-জামান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়ামস কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এম মুনির-উজ-জামান। তিনি পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে ১৯৫৮ ব্যাচের সদস্য হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে কিশোরগঞ্জের এসডিও, কুমিল্লার এডিসি, বগুড়ার ডেপুটি কমিশনারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করেন মুনির-উজ-জামান।
পরবর্তীতে তিনি পাকিস্তান সরকারের কেন্দ্রীয় প্রশাসনে উপ-সচিব (বহিঃঅর্থ বিভাগ), ইপিএসসিআইসি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন।
বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর তিনি দেশের উচ্চ প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি বিদ্যুৎ, পানি সম্পদ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন; ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা; পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগসহ (বর্তমান ইআরডি) একাধিক মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অবসর গ্রহণের পর তিনি বিশ্বব্যাংক গ্রুপে সিনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অধীনে হোয়াইট পেপার সেলের প্রধান পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে ফিলিপাইনে তার দায়িত্ব ন্যস্ত হয়।
এম মুনির-উজ-জামান ব্রিটিশ বাংলার বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলির এমএলএ এম তোফাজ্জল হোসেনের জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং যশোরের চৌগাছা এলাকার একটি ঐতিহ্যবাহী জমিদার পরিবারের সদস্য। তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র, পাঁচ নাতি-নাতনি এবং পাঁচ প্রপৌত্র-প্রপৌত্রী রেখে গেছেন।










