বাংলাদেশের রফতানি বহুমুখীকরণের অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে হালাল পণ্যের বিকাশের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হালাল সার্টিফিকেশন, বৈশ্বিক চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি ও শরিয়াহ মান অনুসরণ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল তৈরি এবং একটি স্বতন্ত্র বাংলাদেশ হালাল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি গঠনের সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

‘হালাল পণ্য বাংলাদেশের রফতানি বহুমুখীকরণের অন্যতম প্রধান খাত’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। হালাল পণ্যের সম্ভাবনা নিয়ে কয়েক বছর ধরে কাজ করছে বিসিআই। এর ধারাবাহিকতায় ১৭ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে একটি গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করা হয়। পরে ১৮ জুলাই সরকারি-বেসরকারি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করে সংগঠনটি। এসব আলোচনার ভিত্তিতে একটি পলিসি গাইডলাইন বা প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশে হালাল পণ্যের বিকাশে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি, হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারিগরি ও শরিয়াহ মান অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি হালাল পণ্যের রফতানি বৃদ্ধির কৌশল, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়ও এতে তুলে ধরা হয়েছে।

হালাল পণ্যের স্থানীয় ও রফতানি বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে একটি একক ও স্বতন্ত্র বাংলাদেশ হালাল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছে বিসিআই। এ ধরনের একটি কর্তৃপক্ষ হালাল পণ্য খাতের উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

১৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে একপর্যায়ে বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) হালাল পণ্যের গুরুত্ব নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিফ করেন। এ সময় বিসিআই প্রণীত হালাল বিষয়ক পলিসি গাইডলাইন-সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন তিনি।

পরবর্তী সময়ে প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থার প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিসিআইয়ের প্রতিবেদনের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘হালাল পণ্যের রফতানি বৃদ্ধি বাংলাদেশের রফতানি বহুমুখীকরণের অন্যতম প্রধান খাত হয়ে উঠতে পারে।’