সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত ৫০ সংসদ সদস্যের (এমপি) ৩৭ জনই কোটিপতি পরিবারের সদস্য। এর মধ্যে বিএনপির ২৭ জন এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ১০ জন রয়েছেন বলে জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এবিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে সংগঠনটি। এ সময় সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বিষয়ে নানা তথ্য তুলে ধরেন। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) সংসদ সদস্যদের জমা দেয়া হলফনামা অনুযায়ী সম্পদের এ বিবরণী তৈরি করেছে সুজন।

সংগঠনটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ৩৭ জনের মধ্যে ২০ জনের পরিবারের সম্পদ পাঁচ কোটির বেশি । অর্থাৎ প্রায় ৭৪ শতাংশ এমপির পরিবারের সম্পদ কোটি টাকার ওপরে। এর মধ্যে ১৭ জনের পরিবারের সম্পদ এক থেকে পাঁচ কোটি টাকার মধ্যে । অন্যদিকে দুজনের পরিবারের সম্পদ পাঁচ লাখ টাকার নিচে, আর একজন কোনো তথ্য দেননি ।

প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বোচ্চ আয়ের শীর্ষ ১০ জনই বিএনপির সংসদ সদস্য, যাদের মধ্যে চারজনের পরিবারের বার্ষিক আয় কোটি টাকার বেশি। এছাড়া ১০ সংসদ সদস্যের পরিবারের ঋণ রয়েছে, এর মধ্যে চারজনের ঋণ কোটি টাকার বেশি।

সুজন বলছে, এ চিত্র নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে বৈষম্য ও দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতাকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।

এ সময় নারীদের জন্য আসন সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে কার্যকর ও অর্থবহ করার জন্য কতগুলো শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন বলে সুপারিশ করেছে সুজন। সেক্ষেত্রে সংরক্ষিত নারী আসনকে কার্যকর ও অর্থবহ করতে প্রত্যক্ষ ভোটের ব্যবস্থা, যোগ্যতার ভিত্তিতে মনোনয়ন এবং নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ আসন নিশ্চিতের মতো সংস্কার প্রয়োজন বলে জানায় সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। আরো ছিলেন সুজনের ঢাকা মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ক্যামেলিয়া চৌধুরী ও কর্মসূচি ব্যবস্থাপক সজল কোরায়েশী।