পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, বাংলাদেশকে বিপজ্জনক বর্জ্যের ভাগাড় হতে দেয়া যাবে না। তিনি জাহাজ ভাঙা শিল্পে কঠোর পরিবেশ আইন প্রয়োগ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

আজ রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ ও বিপজ্জনক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জাতীয় নিয়ন্ত্রক কাঠামো’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, এ শিল্প মানবজীবনের বিনিময়ে চলতে পারে না। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জোয়ারভাটা অঞ্চলে জাহাজ ভাঙার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে এটিকে জাতীয় নীতির অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এ শিল্প যদি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে না চলে, তাহলে এটি টিকিয়ে রাখার কোনো যুক্তি নেই। আমি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, যাতে বাংলাদেশকে বিষাক্ত বর্জ্যের ভাগাড় হওয়া থেকে রক্ষা করা যায় এবং শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

তিনি জানান, জাহাজ ভাঙা শিল্পে শ্রমিকরা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে থাকেন। কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পান না। তিনি পোশাক শিল্পের উদাহরণ টেনে বলেন, পোশাক শিল্পে বিদেশী ক্রেতারা শ্রমমান বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কিন্তু জাহাজ ভাঙা শিল্পের মালিকরা তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যান।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে দেশে ইস্পাতের বেশিরভাগ চাহিদা বিলেট থেকে পূরণ হয়, সেখানে এত ঝুঁকি নিয়ে কেন জাহাজ ভাঙতে হবে?

তিনি জানান, একটি কোম্পানি একদিনেই চারটি দেশ থেকে অনুমোদনপত্র সংগ্রহ করে জাহাজ ভাঙার জন্য বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। ইউরোপের কোনো দেশে কি সমুদ্রতটে জাহাজ ভাঙার অনুমতি দেয়া হতো? তাহলে বাংলাদেশে কেন এ বৈষম্য?

তিনি অভিযোগ করেন, শিল্প মন্ত্রণালয় কীভাবে পরিবেশগত আইন লঙ্ঘন সত্ত্বেও জাহাজ ভাঙার অনুমতি দিচ্ছে?

তিনি বলেন, কিছু শিপইয়ার্ড এখনো বৈধ পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই কাজ করছে, যেখানে সম্প্রতি এক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। আমাদের শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় উচ্চ আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করা জরুরি বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে শিল্প ও গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা ও বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন উপস্থিত ছিলেন।