করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ঘোষিত সর্বাত্মক লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সিরাজগঞ্জের পোলট্রি খামারে ডিম কিনতে আসতে পারছেন না পাইকাররা। এ কারণে উৎপাদিত ডিম নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। বেশির ভাগ ডিম অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে। ফলে টানা লোকসানের কবলে পড়ে অনেকেই পোলট্রি শিল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। অনেকে খামার বন্ধ করে দিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে পোলট্রি ফার্মের অবস্থা অনেকটাই নাজুক। জেলায় ৩ হাজার ৭৭৭টি পোলট্রি খামার থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ডিম উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদিত ডিম জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। জেলায় প্রতিদিন ডিমের চাহিদা রয়েছে দুই লাখ পিস। তাই প্রতিদিন ১০ লাখ পিস ডিম উৎপাদিত হলেও  অবশিষ্ট আট লাখ ডিম কোনোভাবেই অন্যত্র পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।

চলমান লকডাউনের জন্য দূরপাল্লার যানবাহন ও গণপরিবহন না থাকায় প্রতিদিনের উৎপাদিত ডিম ঠিকমতো বিক্রি করতে না পারায় ব্যাপক আর্থিক লোকসান গুনতে হচ্ছে খামারিদের। তারা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে পোলট্রি ফার্ম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন খামারিরা।

সদর উপজেলার শিয়ালকোল এলাকার শাহীন রেজা বলেন, তার খামারে ২৮ হাজার মুরগি আছে। প্রতিদিন ১৪ হাজার ডিম উৎপাদন হয়। লকডাউনের কারণে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য জেলার পাইকাররা না আসতে পারায় উৎপাদিত ডিম বিক্রি করতে হিশশিম খেতে হচ্ছে। অনেক কম দামে বিক্রি করায় প্রতিদিন লোকসানে পড়তে হচ্ছে তাকে।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি এসএম ফরিদুল ইসলাম জানান, করোনাভাইরাস ও লকডাউনসহ নানা প্রতিকূলতায় পড়ে জেলার পোলট্রি খামারিদের অবস্থা খুবই নাজুক। গত বছরের লকডাউনের কারণে চরম লোকসান গুনতে হয়েছে আমাদের। সরকার হাতেগোনা কয়েকজন খামারিকে কিছু পরিমাণ সহযোগিতা করলেও বেশির ভাগ খামারি কিছুই পাননি। তিনি জেলার এ শিল্পকে বাঁচাতে সরকারের সুদৃষ্টি ও সহযোগিতা কামনা করেন।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আক্তারুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, সিরাজগঞ্জের খামারিদের উৎপাদিত ডিম যেন রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য জেলাতেও পাঠানো যায় তার ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।