নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দল প্রতীককে জয়ী করাকে ‘ইমানি দায়িত্ব’ হিসেবে প্রচার করছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন এসব কথা বলেন।

ড. মাহদী আমিন অভিযোগ করেন, একটি দল থেকে যেসব এনআইডি সংগ্রহ করা হয়ে গেছে, সেগুলো ব্যবহার করে আর্থিক সুবিধার প্রলোভন দেয়া হতে পারে ভোটারদের। এ বিষয়ে ইসিকে সতর্ক হতে হবে। তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনী ইতিহাসের দিকে তাকালে ছোটখাটো অনেক ঘটনা হয়ে থাকে। তাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো সজাগ এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। বিএনপি কোনো ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন চাই।’

এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী তালিকা সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরে মাহদী আমিন জানান, ২৯২টি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীরা লড়ছেন। তাদের মধ্যে ৮৫ জনেরই এর আগে সংসদ সদস্য হিসেবে জনগণের জন্য কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এছাড়া বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে ১৯ জন এর আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রার্থীদের রাষ্ট্র পরিচালনার এ অতীত অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততা গণমানুষের দল বিএনপিকে একটি ভিন্ন উচ্চতায় রেখেছে। শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকেও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের স্বকীয়তা রয়েছে এবং ২৩৭ জন ন্যূনতম স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

মাহদী আমিন বলেন, ‘বিএনপি আসন্ন নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক তথা ১০ জন নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে, যা নারীর ক্ষমতায়নে আমাদের প্রতিশ্রুতির বহিঃপ্রকাশ।’ এ সংখ্যা আগামী দিনে আরো বাড়বে বলেও তিনি জানান।

নারী প্রার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হওয়া সত্ত্বেও একজন নারীকেও মনোনয়ন দেয়নি এমন রাজনৈতিক দলও রয়েছে, যা হতাশাজনক ও দুঃখজনক।’

নির্বাচনসহ যেকোনো অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশী রাষ্ট্রগুলো সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ড. মাহদী আমিন। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে বিএনপি একটি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট চায়।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ ও মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলসহ অন্য নেতারা।