চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) এলাকায় কারখানার আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনটিই জ্বলছে। সাত ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি আগুন। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। অগ্নিনির্বাপনে কাজ করছে সেনা, নৌবাহিনীর ও বিমানবাহিনীও। সঙ্গে যোগ দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড ও জিহং মেডিকেল কোম্পানি লিমিটেড নামে কারখানা দুটিতে হাসপাতালে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও তোয়ালে তৈরি করা হতো। প্রচুর পরিমাণে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং এর তীব্রতাও অনেক বেশি।

এরই মধ্যে ভবনের ৮ তলার ছাদ ধসে পড়েছে। থেমে থেমে কারখানাটির ভেতরে ছোট আকারে বিস্ফোরণ হচ্ছে। আগুনের তাপের কারণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাছে যেতে পারছেন না। দূর থেকে এক পাশে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন তারা। এর মধ্যে আগুন পাশের একটি তিনতলা ভবনেও ছড়িয়েছে। আগুনের তীব্র তাপে পাশের কয়েকটি কারখানার ভবন অতিরিক্ত গরম হওয়ায় পানি ছিটিয়ে শীতল রাখার চেষ্টা করছে ফায়ার সার্ভিস ও সেখানকার কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আগুন লাগা প্রতিষ্ঠানটিতে তোয়ালেসহ হাসপাতালে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি তৈরি করা হয়। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত পরে জানানো হবে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনও হতাহত হয়নি।’

ফায়ার সার্ভিসের বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্র জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের বন্দর, আগ্রাবাদ, ইপিজেড, কালুরঘাট ও চন্দনপুরা স্টেশনের ২৫টি ইউনিট।

সিইপিজেড সূত্রে জানা গেছে, আগুন লেগেছে অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড ও জিহং মেডিকেল কোম্পানি লিমিটেডের গুদামে। এর মধ্যে অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল তোয়ালে ও ক্যাপ উৎপাদন করে আর জিহং মেডিকেল সার্জিকেল গাউন তৈরির কারখানা। সাততলা ভবনের সর্বোচ্চ তলায় অবস্থিত দুটি কারখানার গুদাম থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুরো ভবনে প্রায় ৭০০ শ্রমিক কাজ করলেও এ দুর্ঘটনায় এখনো কেউ হতাহতের খবর মিলেনি। ৬ ও ৭ তলা গুদাম হিসেবে ব্যবহার হয়।

চট্টগ্রাম ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুস সোবহান বলেন, 'কারখানার ৭ম তলায় আগুন লেগেছে। যেখানে আগুনের সূত্রপাত সে জায়গাটি মূলত গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শ্রমিকরা সাধারণত ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় কাজ করেন। ভেতরে এখন কোনো শ্রমিক নেই। সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।'