জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) ভর্তি পরীক্ষা জীববিজ্ঞান অনুষদের পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ মোটামুটি সন্তোষজনক থাকলেও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ট্রাফিক অব্যবস্থাপনার কারণে তীব্র জনভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
রোববার (৯ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে মেয়েদের পরীক্ষা গ্রহণ শুরু হয় এবং বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত এ পরীক্ষা চলে। পরীক্ষা শুরুর পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিশমাইল এলাকা থেকে সাভারের পাকিজা গার্মেন্টস পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মহাসড়কের পাশে শতাধিক মোটরসাইকেল পার্ক করা ছিল, যা মূলত রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের বলে জানা গেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যরা কিছু বাইক মালিককে সরিয়ে নিতে অনুরোধ করলেও সেখানে কোনো ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায়নি। সামান্য এগিয়ে গেলে দুজন ট্রাফিক পুলিশের দেখা মিললেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল না ।
ঢাকা থেকে আরিচাগামী সাভার পরিবহনের যাত্রী আনিসুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমি টেকনিক্যাল মোড় থেকে বাসে উঠেছি নবীনগর যাওয়ার জন্য। কিন্তু পাকিজা এলাকায় এসে বাসটি যানজটে আটকে গেছে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বসে আছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে বাইক পার্কিং নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্য তানিন বলেন, ‘আমি একাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি, তবে এখানে কোনো ট্রাফিক পুলিশ নেই। একজন বাইক রাখলে অন্যরাও রেখে যান, তাই জায়গাটি পার্কিংয়ের মতো হয়ে গেছে।’
ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে ঢাকা জেলা উত্তর পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর গোলাম সারোয়ার বলেন, আমরা সারাদিন ১৫০ পুলিশ সদস্য নিয়ে কাজ করেছি, এখনো করছি। এরপরও যদি সমস্যা হয়, তাহলে আর কী করার আছে?
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, আমরা বিষয়টি লক্ষ্য করেছি, যা খুবই দুঃখজনক। আগামীকাল যেন এ ধরনের সমস্যা না হয়, সে জন্য আজ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে একটি মিটিং রয়েছে। আগামীকাল সেনাসদস্যরাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যুক্ত হবেন। আশা করছি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।
ডি ইউনিটের অধীন জীববিজ্ঞান অনুষদে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য থাকা ১৫৫টি আসনের বিপরীতে ৩৯ হাজার ৬৪ জন আবেদন করেছিলেন। তবে আজকের পরীক্ষায় আবেদনকারীদের মধ্যে ৮৫ শতাংশ উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার।










