যশোর পৌরসভার বেশির ভাগ সড়কের বেহাল অবস্থা। শহরের প্রধান কয়েকটি সড়ক ছাড়া অন্তত ৮০টি সড়কের অবস্থা খুবই নাজুক। বর্তমান মেয়রের সময়ে কোনো সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু করেনি পৌর কর্তৃপক্ষ। আগের মেয়রের করা সব সড়কই ভেঙে গিয়েছে। এতে নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছে পৌরবাসী।
যশোর পৌরসভা সূত্রে জানা জায়, বেহাল ৮০টি সড়কের মধ্যে ১০টি সড়ক সংস্কারে এরই মধ্যে ৮ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। অন্য ৭০টি সড়ক সংস্কারসহ নালা ও বাতি বসানোর জন্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় প্রস্তাবনা দিয়ে মিউনিসিপ্যাল গভর্নেন্স সার্ভিসেস প্রজেক্ট (এমজিএসপি) শিরোনামে একটি প্রকল্প একনেকে ওঠার পর্যায়ে রয়েছে।
শহরের বেজপাড়ায় ভাষাসৈনিক আমির আহমদ বাইলেন সড়ক, তার বিপরীত সড়ক ও মসজিদ সড়কটি ৩০ বছর আগে ইটের সলিং করা হয়েছিল। এখন ইট উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে দেবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বকচর হুশতলা মোড় থেকে নীলগঞ্জ সড়ক ও পাইপপট্টি থেকে ফায়ার সার্ভিস সড়ক দুটি দুই বছর আগে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছিল পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এ সড়ক দুটিও
ভেঙে একাকার।
শহরের বেজপাড়া চোপদারপাড়া সড়কটি বেজপাড়া তালতলা মোড় থেকে শুরু হয়ে সরকারি হাঁস-মুরগির খামারের সামনে রেল সড়ক, শংকরপুর রেললাইন ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে যুক্ত হয়েছে। এ সড়কে বিটুমিনের আস্তরণ উঠে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটি সংস্কারের দাবিতে মাস দুয়েক আগে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ মিছিল করেন। গণস্বাক্ষরসংবলিত স্মারকলিপি পৌরসভার মেয়রের কাছে দেয়া হয়েছিল কিন্তু সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
ওই এলাকার বাসিন্দা জিল্লুর রহমান বলেন, যশোর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে শহরে প্রবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাইপাস সড়ক এটি। জেলা আনসার-ভিডিপি ক্যাম্প (কার্যালয়), যশোর
কলেজ ও যশোর মেডিকেল কলেজে যাতায়াতের জন্য সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র পৌনে এক কিলোমিটার দীর্ঘ চোপদারপাড়া সড়কে পয়োনিষ্কাশনে নালার ভালো ব্যবস্থা নেই। দুই যুগের মধ্যে এ সড়ক সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।
খড়কি এলাকার শাহ আবদুল করিম সড়কে গিয়ে দেখা গিয়েছে, সড়কের সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের প্রধান ফটকের (দক্ষিণ গেট) পাশে খড়কি মোড়ে হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। পানি জমার কারণে সড়কের বিটুমিনের আস্তরণ উঠে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
যশোর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফ হাসান জানান, সংস্কারসহ সড়কের সঙ্গে নালা ও বাতি বসানোর জন্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় প্রস্তাবনা দিয়ে মিউনিসিপ্যাল গভর্নেন্স সার্ভিসেস প্রজেক্ট শিরোনামে একটি প্রকল্প একনেকে ওঠার পর্যায়ে রয়েছে। এটি পাস হলে যশোর পৌরসভার সব কাঁচা, আধাপাকা রাস্তা নতুন করে নির্মাণ করা হবে।
এ বিষয়ে যশোর পৌরসভার মেয়র হায়দার গণী খান জানান, পৌরসভার নিজস্ব তহবিলে কোনো টাকা নেই। সরকারি বরাদ্দ পেয়েই তো উন্নয়নকাজ করতে হয়।










