অবশেষে ইজারা দেয়া হলো নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বেড়গঙ্গারামপুর লিচুর আড়ত। মোট ৯ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন স্থানীয় মাহাবুব হোসেন নামে এক আড়ত মালিক। এখন থেকে লিচু বাগান মালিকদের আর কোনো কমিশনের টাকা দিতে হবে না। তবে যারা লিচু ক্রয় করবেন তাদের প্লাস্টিকের ক্যারেট প্রতি ৫ টাকা, বড় ঝুড়ি ২০ টাকা এবং ছোট ঝুড়ি প্রতি ১০ টাকা ইজারা দিতে হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুরুদাসপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার আবু রাসেল।

এ নিয়ে গতকাল বণিক বার্তায় ‘নাটোরে কমিশনে নাকাল লিচুচাষী ও ব্যবসায়ীরা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

নাটোরের গুরুদাসপুরে উৎপাদিত লিচু নিয়ে ২০ বছর ধরে বেড়গঙ্গারামপুর লিচু আড়ত পরিচালনা হয়ে আসছে। কিন্তু ব্যক্তিমালিকানার জায়গার ওপর আড়ত প্রতিষ্ঠিত এমন অজুহাতে এতদিন উপজেলা প্রশাসন ইজারা দিতে পারেনি। এ সুযোগে বেড়গঙ্গারামপুর লিচুর আড়ত মালিক সমিতি কমিশনের নামে ১০০ লিচু বিক্রয়ের ওপর বাগান মালিকদের কাছ থেকে ৮ টাকা, পাইকারি ক্রেতাদের কাছ থেকে ৪ টাকা আদায় করে আসছিল। এতে কৃষকের লাভের টাকা ঢুকত আড়ত মালিকদের পকেটে।

বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। অবশেষে বেড়গঙ্গারামপুর লিচুর আড়ত এলাকায় অনুসন্ধান করে খাস জায়গা বের করে হাটবাজার ইজারা নীতিমালা অনুযায়ী গতকাল দুপুরে উন্মুক্ত ইজারা ঘোষণা করেন গুরুদাসপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার আবু রাসেল।

এ সময় আগামী দুই মাসের জন্য ৭ লাখ ৬০ টাকায় লিজ গ্রহণ করেন স্থানীয় মাহাবুব হোসেন নামের এক আড়ত মালিক। এছাড়া ২০ শতাংশ ভ্যাট ধরে মোট ৯ লাখ টাকায় ইজারা দেয়া হয় লিচুর আড়তটি। এতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন লিচু বাগান মালিকরা।

এর আগে রোববার দুপুরে নিরাপদ লিচু উৎপাদন, আহরণ ও বিক্রয় নিয়ে ব্যবসায়ী, লিচু বাগান মালিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেন জেলা পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা। ওই সভায় লিচু ব্যবসায়ীরা আড়ত মালিকদের কমিশন বাণিজ্য তুলে ধরেন।