অনিবার্য কারণ ছাড়া বিএনপি নির্বাচনী মাঠে থাকবে বলে স্পষ্ট করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘আমরা আজও আরো কিছু প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছি—অর্থাৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আছি। খোদা না করুন—অনিবার্য কোনো পরিস্থিতি ছাড়া বিএনপি এ প্রক্রিয়ার বাইরে যেতে চায় না। আমরা চাই যথাসময়ে নির্বাচন হোক। জনগণ যেন ঠিক করতে পারে রাষ্ট্র কে চালাবে।’

গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। বৈঠকে বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন নজরুল ইসলাম খান। প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ ও ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া—যাকে দেশবাসী শ্রদ্ধা করে—তার রোগমুক্তির জন্য সবাই দোয়া করছে। আমরা তার সুচিকিৎসার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। আল্লাহর মেহেরবানিতে সম্ভবত কাল (আজ) ভোরে তিনি দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন।’

নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা বরাবরই দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়েছি ১৪-১৫ বছর ধরে। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই। এখনো বলছি—যথাসময়ে নির্বাচন হোক।’

বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে ভোট কেন্দ্র ও বুথ সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এবার ভোটটা হচ্ছে দুইটা ব্যালটে—একটা সংসদ সদস্য নির্বাচনের, আরেকটা গণভোটের। যেখানে একটা ব্যালটে ভোট দিতে যথেষ্ট সময় লাগে, সেখানে দুইটা ব্যালট। আমরা দেখলাম, নির্বাচন কমিশন এমন প্রস্তাব করেছে, যেখানে বুথপ্রতি ভোটারের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। আমরা চাই সব ভোটার যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে—কেউ যেন ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়। তাই বিএনপির পক্ষ থেকে ভোটের সময়সীমা ও বুথ সংখ্যা বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।’

ভোটার তালিকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উনি বাংলাদেশের নাগরিক। ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে নাম ওঠানোর জন্য সময় পার হয়ে যায়নি। এটা কমিশন যখন চাইবে তখনই পারবে।’