সিলেটে কিছুদিন ধরে দীর্ঘ লাইন ধরে সিএনজি কিনতে হচ্ছে যানবাহন চালকদের। সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিকরা বলছেন, লোড না বাড়ানোয় স্টেশনগুলোয় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে জালালাবাদ গ্যাসের একটি সূত্র জানিয়েছে, সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে তারা মাসিক লোডের ক্ষেত্রে কিছুটা আগ-পিছ করছেন।
পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট বিভাগীয় সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী জানান, জালালাবাদ গ্যাস থেকে ২০০৭ সালে পাম্পগুলোকে সিএনজির যে লোড দেয়া হতো এখনো তা দেয়া হচ্ছে। দীর্ঘ ১৫ বছরেও বাড়ানো হয়নি সিএনজির লোড। এ কারণে অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনের লোড মাসের ২২/২৩ তারিখে শেষ হয়ে যায়। লোড না থাকায় সিলেটের প্রায় ৮০ ভাগ সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ হওয়ার উপক্রম। তিনি জানান, সিলেট বিভাগে সব মিলিয়ে ৩৬টি সিএনজি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে সিলেট নগরী ও আশপাশের এলাকায় এসব সিএনজি ফিলিং স্টেশনের অবস্থান। লোড না থাকায় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কেই পাঁচটি ফিলিং স্টেশন বন্ধ।
গতকাল সকাল ১১টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পাঠানটুলা এলাকায় অবস্থায় নর্থ-ইস্ট সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে দেখা যায়, যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। গ্যাস নেয়ার জন্য এত চাপ, ফিলিং স্টেশনের চত্বর মাড়িয়ে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কেও অনেক যানবাহন ছিল। এ কারণে সৃষ্টি হয় যানজটের।
আজির উদ্দিন নামের একজন সিএনজি অটোরিকশাচালক জানান, বৃহস্পতিবার তিনি ৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে সিএনজি কিনেছেন। তিনি বলেন, দিনের দীর্ঘ সময় গ্যাস নিতেই চলে যাচ্ছে। ইনকাম তোলা কষ্ট হচ্ছে।
জালালাবাদ গ্যাসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবাইকে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে সরকারি নির্দেশনাও রয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, যাতে ডেড লক (অচলাবস্থা সৃষ্টি) না হয়, এজন্য তারা লোডের ক্ষেত্রে আগ-পিছ করছেন। লোডের বিষয়টি এভাবেই ম্যানেজ করে চালানো হচ্ছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
বাংলাদেশ সিএনজি অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার জরুরি মতবিনিময়ে জেলা প্রশাসক সিএনজির বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।










