চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার হামজারবাগের চালিতাতলী বাজার এলাকায় বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গুলির ঘটনায় সারোয়ার হোসেন বাবলা নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আজ বুধবার সন্ধ্যায় পাঁচলাইশ এলাকার চালিতাতলী বাজারসংলগ্ন হামজারবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, আজ পাঁচলাইশ এলাকার হামজারবাগ এলাকায় গণসংযোগ করছিলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। এর এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা এরশাদ উল্লাহের পাশে থাকা সরোয়ার বাবলাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলে এরশাদ উল্লাহ, সরোয়ার হোসেন বাবলা ও শান্ত গুলিবিদ্ধ হন। তাদের নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসক সরোয়ার হোসেন বাবলাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহর পায়ে গুলি লাগলেও তিনি আশংকামুক্ত বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

নিহত বাবলার নামে বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্রবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় ১৯টি মামলা রয়েছে। এর আগেও তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। গত ৩০ মার্চ ভোররাতে বাকলিয়া এক্সেস রোড চকবাজার থানার চন্দনপুরার মুখে তার প্রাইভেটকারে গুলি চালানো হয়। তবে সেইবার বেঁচে যান তিনি। ওই ঘটনায় বখতেয়ার হোসেন ও আব্দুল্লাহ নামে দুজন নিহত হন।

এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ উত্তর জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম বাসসকে জানিয়েছেন, কে বা কারা হামলা চালিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তিনি জানান, এরশাদ উল্লাহ সাহেব নির্বাচনী প্রচারে চালিতাতলী এলাকায় এসেছিলেন। সেখানে সন্ত্রাসীদের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় এরশাদ উল্লাহসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এরমধ্যে সরোয়ার হোসেন বাবলা নামে একজন মারা যান। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা আমরা তদন্ত করে দেখছি।

প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের এ কর্মকর্তা আরো জানান, পূর্ব বিরোধের জেরে কারাগারে থাকা চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদের গ্রুপ সরওয়ার বাবলাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম ৮ আসন (চাঁদগাও- বোয়ালখালী) বিএনপি মনোনিত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এরশাদ উল্লাহর ওপর হামলা একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক সন্ত্রাস। এ ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, বিরোধী প্রার্থীদের নির্বাচনী মাঠে ভয়ভীতি দেখানোর অপচেষ্টা চলছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে এবং জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে সরকার সমর্থিত সন্ত্রাসীরা এমন হামলা চালাচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।