ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে গতকাল বাদ মাগরিব তোফায়েল আহমেদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আজ তার নিজ জেলা ভোলায়ও জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানা গেছে, আজ হেলিকপ্টারে করে তার মরদেহ ভোলায় নেয়া হবে। সেখানে সার্কিট হাউজ ময়দানে জানাজা শেষে তাকে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হবে।
পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তোফায়েল আহমেদ। তিনি এক মেয়েসহ অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর তোফায়েল আহমেদ হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি আইসিইউর সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. রায়হান রাব্বানীর নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তোফায়েল আহমেদ আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতিমণ্ডলীতে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এ সংগঠনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।
তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৭-৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ছিলেন। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা রেখে দেশজুড়ে পরিচিতি পান তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুজিব বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন।
১৯৭০ সালে তিনি মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৬ সালে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং ২০১৪-১৯ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।










