অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক দরকার। কিন্তু সেটা
হতে হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে, সততার ভিত্তিতে। রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁওয়ে প্রধান
উপদেষ্টার কার্যালয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। এদিন বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস
একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী
মো. মাহফুজ আলম।
মাহফুজ আলম বলেন, সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার
চেষ্টা করবেন বলে প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন। এছাড়া শহীদদের জন্য একটি ফাউন্ডেশনের
কাজ চলমান রয়েছে, তার মাধ্যমে শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং তাদের রাষ্ট্রীয় সুবিধা
ও সম্মান নিশ্চিতের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা কথা বলেছেন।
এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহফুজ
আলম বলেন, শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি থাকবে কিনা, থাকলে কি ফরম্যাটে থাকবে সেগুলো
নিয়ে সব জায়গায় আলোচনা হচ্ছে। আমরা চাই আরো আলোচনা হোক। তাহলে একটা সিদ্ধান্তে উপনীত
হওয়া যাবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
মব জাস্টিসের বিষয়ে তিনি বলেন, সারা দেশে মাজার ও মন্দিরে হামলা কিংবা ব্যক্তি আক্রোশের কারণে হামলার বিষয়ে আইন যেভাবে বলে সেভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যারা ফ্যাসিস্টের দালালি বা দোসর হিসেবে কাজ করেছেন, জনগণ তাদের বিচার করবে না, বরং আইন তাদের বিচার করবে। জনগণ শুধু এইটুকু খেয়াল রাখবে যে, এ বিষয়ে যেন কোনো কম্প্রমাইজ না হয় এবং যারা শহীদ বা আহত হয়েছেন তাদের সাথে যেন বেইমানি না হয়। এ বিষয়ে সরকার কঠোর হচ্ছে।
মাহফুজ আলম বলেন, আজকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে
প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক ছিল মূলত এ সরকারের দায়িত্ব নেয়ার এক মাস উপলক্ষে তাদের মতামত
শোনার জন্য। সেখানে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রশ্ন করেছেন এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কারসহ
বিভিন্ন প্রস্তাবনা জানিয়েছেন। ঢাকা ও আশেপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায়
১৫০ জনের মতো শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এখানে শুধু সমম্বয়কই শুধু নয়, যারা আন্দোলনে
বিভিন্ন স্থানে নেতৃত্বে ছিলেন তারা ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা শিক্ষার্থীদের বলেছেন,
তারা যেন অন্তত মাসে একবার তাদের মতামত জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধান
উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এবং অপূর্ব
জাহাঙ্গীর।










