আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পেছানোর লক্ষ্যে একটি পক্ষ বিভিন্ন দাবিদাওয়া তুলে ধরে সরকারকে চাপে রাখতে চাইছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘দেশ ও গণতন্ত্র বাঁচাতে জনগণ দ্রুত নির্বাচন চায়। অথচ কিছু দল নির্বাচন পিছিয়ে দিতে নানা কৌশল করছে। পিআর পদ্ধতি কী তা জনগণ বোঝে না। নির্বাচন সম্পন্ন হলে এবং সরকার গঠন হলে সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংসদে আলোচনা করা সম্ভব হবে।’
গতকাল দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের দানারহাট ঈদগাহ মাঠে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষিকাজের জন্য সার না পেলে কৃষকদের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাওয়ের পরামর্শ দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন সারের সংকট চলছে। ডিসিকে বলতে হবে আপনার বাড়ি কিশোরগঞ্জ, ওদিকে পানি আর পানি। আমাদের এদিকে তো পানি বেশি নেই। আমাদের কৃষিকাজ করে খেতে হয়। খেতের পানি শ্যালো মেশিন আর বরেন্দ্র থেকে নিতে হয়। সারটা আমরা ঠিকমতো চাই। মুখ বন্ধ করে থাকলে কেউ কথা শুনবে না। যদি কথা না শোনে, সারের দাবিতে দরকার হলে ডিসি অফিস ঘেরাও করবেন।’
তিনি বলেন, ‘৩১ দফায় বলেছি, আমরা যদি সরকারে যেতে পারি, তবে ১৫ মাসের মধ্যে এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্যের ব্যবস্থা করব।’
প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘বেশি আমলাতন্ত্রগিরি করবেন না, জনগণের কথা শুনবেন।’
তিনি বলেন, ‘এখন চলছে এক ব্যক্তির এক ভোট। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব। পিআর হচ্ছে কোনো ব্যক্তিকে না, দলকে ভোট দেব। কাকে ভোট দিচ্ছি আমি জানব না? দলকে ভোট দিলে কী হবে, তাও ঠিকমত বলতে পারব না। তবে সেই ব্যবস্থায় আমরা যাব কেন?’
পিআরের দাবি তোলা দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আসুন আমরা সবাই মিলে নির্বাচনটা করি। জনগণ নির্বাচন চায়, ভোট দিতে চায়, জনপ্রতিনিধি চায়। পার্লামেন্টে গিয়ে পিআর নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হবে।’
ঢাকা শহরে এখন যাওয়া যায় না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন আন্দোলন আর আন্দোলন। এই রাস্তা বন্ধ, ওই রাস্তা বন্ধ। এই দুর্বল অন্তর্বর্তী সরকার, যার পেছনে কোনো লোকই নেই, তাকে ব্যতিব্যস্ত করে ফেলার কোনো মানে আছে?’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘শেখ হাসিনা গুলি করে মানুষ হত্যা করে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছেন। আওয়ামী লীগের আমলে তিনটি নির্বাচন হয়েছে, ভোট ছাড়াই ক্ষমতায় গেছে তারা। আমরা ১৫ বছর ধরে ভোটাধিকারের জন্য লড়াই করেছি। আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে। আমরা সবাই মেনে নিয়েছি। নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।’
শিক্ষকদের আন্দোলন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকরা আন্দোলন করছেন। আমরা নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেলে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে জাতীয়করণ করা হবে।’
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিন প্রমুখ।










