আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট, অন্তর্বর্তী সরকারের তিন উপদেষ্টাকে অপসারণসহ তিন দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ আট দল। তাদের অন্য দাবিটি হলো প্রশাসনের রদবদলে নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিতার আওতায় থাকতে পারে এমন মনোভাবের লোকদের নিয়োগ দেয়া।
আট দলের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দাবিগুলো তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সংলগ্ন আল ফালাহ মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
জাতির উদ্দেশে দেয়া প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের ওপর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, ‘একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হলে জাতীয় নির্বাচন বেশি গুরুত্ব পাবে আর গণভোটের গুরুত্ব কমবে। মানুষের মনোযোগের অভাবে গণভোটে যদি ভোট কম পড়ে, তাহলে যারা সংস্কার চাচ্ছে না তারা বলবে, যেহেতু ভোট কম পড়েছে, জনগণ গণভোট চায়নি বলে বিবেচিত হোক। এর মাধ্যমে তারা সংস্কার থেকে সরে আসবে। অপ্রত্যাশিতভাবে ইচ্ছাকৃতভাবে হোক অথবা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে হোক, সরকার একটি দলের ফাঁদে পা দিয়েছে এবং সংস্কারকে প্রায় গুরুত্বহীন করেছে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের তিন উপদেষ্টা একটি দলের হয়ে কাজ করছেন বলে অভিযোগ করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আবদুল্লাহ মো. তাহের। তিনি বলেন, ‘আমি খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, আজকে প্রধান উপদেষ্টাকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করছে তিনজন উপদেষ্টা। একটি দলের হয়ে তারা কাজ করছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন যাতে হতে না পারে, ভুল তথ্য দিয়ে, নানাভাবে বুঝিয়ে সরকারকে সেদিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য সুকৌশলে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’
ওই তিন উপদেষ্টার পরিচয় প্রকাশ না করেই আট দলের পক্ষ থেকে তাদের অপসারণের দাবি জানান ডা. তাহের। তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের নাম পাঠানো হবে। এর পরও যারা ষড়যন্ত্রের প্রধান হোতা হিসেবে কাজ করছেন, তাদের বিষয়ে যদি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া না হয়, সেই নামগুলো প্রকাশ করার বিষয়ে ভাবা হবে।’
জনগণ গত তিন জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি দাবি করে জামায়াতের এ নেতা বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কিনা তা নিয়ে আমরা শঙ্কা প্রকাশ করছি। সম্প্রতি প্রশাসনে যে রদবদল হচ্ছে সেখানেও একটি দলকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।’
আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, ‘আমরা আট দলসহ আরো কিছু দল চাই, ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগে নির্বাচন সফল হোক। এর জন্য আমরা মাঠে কাজ করছি। কিন্তু যে কারণে জনগণ ১৫ বছর ভোট থেকে বঞ্চিত হয়েছিল, আবারো সে অবস্থাই তৈরি হয়েছে। আরেকটি পরিকল্পিত নির্বাচন হতে যাচ্ছে কিনা, সে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ। উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসউদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির ইউসুফ আশরাফ, খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসাইন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব কাজী নিজামুল হক প্রমুখ।










