বোরো মৌসুমে বাড়তি খরচের মুখে পড়েছেন গাইবান্ধার কৃষক। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর বিঘাপ্রতি ১১-১৪ শতাংশ বাড়তি ব্যয় হচ্ছে তাদের। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ডিজেল, সার, বীজ, কীটনাশকসহ শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদনও খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাতটি উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১ লাখ ২৮ হাজার ৩৬৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ২১ হাজার ৩০৫ হেক্টর, ফুলছড়িতে ৮ হাজার ৩০৪, সাঘাটায় ১৪ হাজার ৭০৪, সাদুল্যাপুরে ১৪ হাজার ৪০৮, পলাশবাড়ীতে ১১ হাজার ৮০৯, গোবিন্দগঞ্জে ৩১ হাজার ১০৫ এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ২৬ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

কৃষকরা এরই মধ্যে ধানের চারা রোপণ শুরু করেছেন। গেল মৌসুমে বাজারে আমন ধানের দাম ভালো পাওয়ায় বোরো চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকের। দ্রব্যমূল্য বাড়ার কারণে শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। পাশাপাশি কীটনাশক, বীজ, সার ও ডিজেলের দাম বাড়ায় গত বছরের তুলনায় বিঘাপ্রতি ১ হাজার ৫০০-২০০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে বলে জানান কৃষক।

সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের চকবরুল গ্রামের কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, ‘গত বছর এক বিঘা জমিতে ইরি ধান রোপণ করতে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছিল ১২ হাজার-১২ হাজার ৫০০ টাকা। গত বছরের তুলনায় এবার বিঘাপ্রতি খরচ বেড়েছে ১ হাজার ৫০০-২ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে প্রতি বিঘায় খরচ হবে ১৩ হাজার ৫০০-১৪ হাজার ৫০০ টাকা।’ কৃষিতে ব্যবহার করা সব উপকরণের দাম কমানো হলে কৃষক আরো লাভবান হতেন বলে মনে করেন তিনি।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. খোরশেদ আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ২৮ হাজার ৩৬৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে চাষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বোরো ধান চাষে সুষম মাত্রায় সার দেয়ার জন্য ও সঙ্গে সঙ্গে লাইন, লোগো এবং পার্সিং করার জন্য কৃষককে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’