যমুনা সেতু এলাকা ও সাসেক-২ প্রকল্পের বিভিন্ন চলমান কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ। আজ বৃহস্পতিবার পরিদর্শনকালে তিনি প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, গুণগতমান এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাস্তবায়ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন।
পরিদর্শনের শুরুতে সচিব সেতু বিভাগ যমুনা সেতুর পরিত্যক্ত রেল ট্র্যাক অপসারণ করে ডেক বর্ধিতকরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, যমুনা রেল সেতু চালু হওয়ার পর মূল যমুনা সেতুর পরিত্যক্ত রেল অবকাঠামো অপসারণ এবং ডেক বর্ধিতকরণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেতুর কার্যকারিতা ও ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
পরবর্তীতে সেতু সচিব যমুনা সেতুর চলমান পট বেয়ারিং প্রতিস্থাপন কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সেতুর কাঠামোগত নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এ কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে কাজ সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।
এছাড়া তিনি যমুনা সেতুর পশ্চিম গাইড বাঁধে চলমান নদীশাসন কাজ পরিদর্শন করেন। নদীর প্রবাহ, ভাঙন এবং তলদেশের পরিবর্তনের প্রভাব থেকে গাইড বাঁধ ও সেতু অবকাঠামোকে সুরক্ষিত রাখতে এ কার্যক্রমের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার এবং নির্ধারিত নকশা ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার পরামর্শ দেন।
পরিদর্শনকালে সেতু সচিব সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়নাধীন চার-লেন সড়ক, এলেঙ্গা ফ্লাইওভার এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেন।
এ সময় তিনি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং কাজের গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুততম সময়ে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সাসেক-২ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে।
পরিদর্শন শেষে সচিব বলেন, যমুনা সেতু দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রধান সংযোগস্থল। সেতুর নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ নির্ধারিত সময়ে ও সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে সম্পন্ন করতে হবে। একইসঙ্গে জনসাধারণের যাতায়াতে যেন কোনো ভোগান্তি না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, সবার সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে ঈদযাত্রায় যমুনা সেতু এলাকায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে এবং সাধারণ যাত্রীরা নির্বিঘ্নে যাতায়াতের সুযোগ পেয়েছেন। ভবিষ্যতেও একই ধরনের পেশাদারত্বের মাধ্যমে যানজট ও জনভোগান্তি হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পিএন্ডডি) ও যুগ্ম সচিব ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ, সেতু বিভাগের উপসচিব খালেদ হোসেন, অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক (সাসেক-২) গোলাম মর্তুজা উপস্থিত ছিলেন।










