ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম (আরমান) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আসন্ন নির্বাচন, প্রচারণার সাড়া, এলাকার অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং নাগরিক সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। তুলে ধরেছেন ভোটারদের প্রত্যাশা ও কর্মসূচির অগ্রাধিকার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনিকা মাহজাবিন
নির্বাচনী ব্যস্ততা কেমন কাটছে?
টানা আট মাস ধরে নির্বাচনী মাঠে আছি। এ সময়ে মানুষের ঘরে ঘরে গিয়েছি। অলিতে-গলিতে, বড় অ্যাপার্টমেন্টে, বস্তিতে, ব্যবসায়ী, শ্রমিক—সবার কাছে গিয়েছি। অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি, বিশেষ করে নারী ভোটারদের কাছে থেকে। এরপর সাড়া পাচ্ছি তরুণদের কাছ থেকে, যারা কখনো ভোট দেননি। দ্বিতীয়ত, সাড়া পাচ্ছি শ্রমজীবী মানুষের কাছ থেকে, যারা মনে করেন এ সমাজ তাদের বঞ্চিত করছে। তাদের সবার বক্তব্য হচ্ছে এবার তারাও পরিবর্তন চান। তারা চান একটি নির্মল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ এবং এটাই আমাদের ওয়াদা।
কেমন নির্বাচন আশা করছেন?
আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হলে, মানুষ নিরাপদে ভোট দিয়ে ঘরে ফিরতে পারলে এবং ভোটের মার্কা অনুযায়ী সঠিক গণনা হলে ভোট বিপ্লব হবে—ইনশা আল্লাহ।
ভোটের ফলাফল নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?
আমি আশাবাদী। জনগণ আমার পাশে থাকবে বলে বিশ্বাস করি। তবে আমি এটাও বলতে চাই—আমি জিতলে আমার প্রতিদ্বন্দ্বীদেরও সঙ্গে নিয়ে পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চাই। আর যদি না-ও জিতি, তবু ভালো কাজের পাশে একজন কর্মী হিসেবে থাকব।
ঢাকা-১৪ আসনের সবচেয়ে বড় সমস্যা কী? কীভাবে এর সমাধান করবেন?
ঢাকা-১৪ আসনের দুটি সবচেয়ে বড় সমস্যা রয়েছে। প্রথমটি হলো প্রকাশ্য ও নীরব চাঁদাবাজি। বড় ব্যবসায়ীকে তো দিতেই হয়। আর যে নারী রাস্তার পাশে বসে রোদে পুড়ে-বৃষ্টিতে ভিজে সবজি বিক্রি করে ৮০০-৯০০ টাকা আয় করেন; তাকেও ১০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। এ চাঁদাবাজি আমাদের এলাকার অর্থনীতিকে ক্যান্সারের মতো গ্রাস করেছে। কয়েকজন চাঁদাবাজ লক্ষাধিক মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। তাদের শক্তির উৎস হচ্ছে রাজনৈতিক ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের আশীর্বাদ। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা তাদের আশ্রয় দেন ও পৃষ্ঠপোষকতা করেন। এসবের সঙ্গে আমি বা আমার দলের কেউ সম্পৃক্ত নেই। জনগণ যদি আমাদের ওপর আস্থা রাখে তাহলে আর কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেব না। ফুল স্টপ। এ এলাকার দ্বিতীয় বড় সমস্যা হলো মাদক। ঢাকা-১৪-এর অধিকাংশ মানুষ নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী। তারা সন্তানের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। অথচ সেই সন্তানরাই মাদকে জড়িয়ে পড়ছে। প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হচ্ছে। রাজনৈতিক শক্তি কাজ না করলে এত প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করতে পারত না। জানা থাকা সত্ত্বেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এখানে আমাদের ওয়াদা হলো জনগণ যদি আমাদের ওপর আস্থা রাখে, এ চক্র যতই বড় হোক, আমরা এটি নির্মূল করবই।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন আনতে চান?
আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার বড় সমস্যা হলো এটি কর্মমুখী নয়। আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সার্টিফিকেটধারী কিছু বেকার তৈরি করছি। এ শিক্ষা ব্যবস্থাকে কর্মমুখী করতে হবে। আমাদের অধিকতর দৃষ্টি থাকবে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা—আইটি ট্রেনিং, বিদেশী ভাষা শিক্ষা, মেডিকেল টেকনিশিয়ান, স্কিলভিত্তিক প্রশিক্ষণে। এর লক্ষ্য হলো আমাদের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের জন্য তৈরি করা। এ জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে রূপান্তর করাই আমাদের লক্ষ্য। এছাড়া ঢাকা-১৪ আসনকে একটি উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করতে চাই, যাতে এখানকার যুবকরা দেশের জন্য দেশী ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের জন্য তৈরি হয়।
এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অর্থের জোগান কীভাবে আসবে?
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জাতীয়ভাবে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করেছে। তার অংশ হিসেবে ঢাকা-১৪ একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে প্রাধান্য পাবে। আমাদের লক্ষ্য হলো জব মার্কেট ওরিয়েন্টেড ট্রেনিং। বাস্তবতা হলো আমাদের বিএসসি গ্র্যাজুয়েটরা ভারতের ডিপ্লোমা গ্র্যাজুয়েটদের পেরোতে পারছে না। এখানে বোঝা যায়, আমাকে ফোকাসে গুরুত্বের অভাব রয়েছে। শুধু ডিগ্রি নয়, সার্টিফিকেটের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে হবে।
আপনি দীর্ঘদিন রাজনৈতিকভাবে গুমের শিকার ছিলেন। নির্বাচিত হলে গুম প্রতিরোধে কোনো নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা আছে কি?
আমরা তিন দফা কর্মসূচি-কর্মপন্থা তৈরি করেছি। এতে জাতিসংঘের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ সহায়তা করেছে। প্রথমত, জবাবদিহি—যে-ই জড়িত থাকুক না কেন, তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
দ্বিতীয়ত, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ—ভুক্তভোগী ও পরিবারগুলোকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পুনর্বাসন করতে হবে এবং তৃতীয়ত, পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধ, যাতে ভবিষ্যতে আর কখনো গুম না হয়। গুমের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং এ-সংক্রান্ত বই, গবেষণা, নাটক ও সিনেমার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ফ্যাসিবাদ চিনতে শেখাতে হবে।









