১৭ দিন চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পর লন্ডন ক্লিনিকের কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নিয়ে জ্যেষ্ঠ ছেলে তারেক রহমানের বাসায় উঠছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি ছেলের বাসায় উঠেছেন বলে জানান তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন। ৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন থেকে লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন।

জাহিদ হোসেন বলেন, সব কিছু ঠিক থাকলে, রিপোর্টগুলো এলে ইনশাআল্লাহ ম্যাডামের হাসপাতাল থেকে ছুটি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এখানকার চিকিৎসকরা যদি উনাকে ছুটি দেয়, কারণ কিছু কিছু রিপোর্টের জন্য গতকালও একজন চিকিৎসক দেখে পরীক্ষা করানোর জন্য দিয়েছিলেন যেগুলো আজ করা হচ্ছে। সেগুলো যদি করানো শেষ হয়, সব ঠিক থাকে, তাহলে হয়তো ইভিনিংয়ে ছুটি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে ছুটি পেলেও উনি সার্বক্ষণিক প্রফেসর জন প্যাট্টিক কেনেডি ও অধ্যাপক জেনিফার ক্রস। এ দুজনের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসাধীন থাকবেন এবং ম্যাডামের যে মেডিকেল বোর্ড আছে তারাও থাকবেন। অর্থাৎ ইউকের যে নিয়ম সে নিয়ম মেনেই উনার চিকিৎসা চলবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন কেমন আছেন জানতে চাইলে অধ্যাপক জাহিদ বলেন, ম্যাডাম এখন সার্বিকভাবে অনেকটা বেটার আছেন। কিন্তু উনার যে কথাটা আমরা আগেও বলেছি যে উনার লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার বিষয়টার ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। কারণ মনে রাখতে হবে আমি আগেও এখানে (লন্ডন ক্লিনিকের সামনে) বলেছি, উনার বয়সটা একটা বিবেচ্য বিষয় এবং উনার লিভার ডিজিজ। উনি জেলখানায় যখন ছিলেন একাকীত্ব এবং বলতে গেলে যে চিকিৎসা উনার প্রয়োজন ছিল, সে চিকিৎসা থেকে উনাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আর দীর্ঘ সময় আটকিয়ে রাখার কারণে যে সময়ে উনাকে বিদেশে নিয়ে এলে হয়তো আরো দ্রুত সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল অনেকটাই। আজকে এই সময়ে এসে চিকিৎসকদের বক্তব্য হচ্ছে, হয়তো আগে হলে নতুন চিন্তাভাবনা করা যেত।

তিনি বলেন, এ অবস্থার মাঝে এখন পর্যন্ত আগামীতে লন্ডন ক্লিনিকের মেডিকেল বোর্ডের যে চিকিৎসা অর্থাৎ ওষুধের মাধ্যমে উনার বিভিন্ন রোগের যে চিকিৎসা চলছে সেটা অব্যাহত রাখার জন্য এখন পর্যন্ত এখনকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এবং জন হপকিন্সের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাসহ সবাই মোটামুটি একমত, সে অনুযায়ী চিকিৎসা চলবে। এ চিকিৎসা চলা অবস্থায় উনার শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে যেসব রিপোর্টের ফলাফল এখনো আসেনি, কয়েকটা বাইরেও পাঠানো হয়েছে। সেগুলো আসার সাপেক্ষে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। একই সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের এ সুস্থতা যাতে অব্যাহত থাকে, সেজন্য দেশবাসীর কাছে উনি, উনার পরিবার এবং আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব দোয়া চেয়েছেন।

গত ৭ জানুয়ারি খালেদা জিয়া কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে পরদিন যুক্তরাজ্যের ‘লন্ডন ক্লিনিকে’ ভর্তি করা হয়। এ হাসপাতালটির লিভার বিশেষজ্ঞ প্রফেসর জন প্যাট্রিক কেনেডির নেতৃত্বাধীন মেডিকেল বোর্ডের অধীনে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।