সংস্কারকাজের জন্য এক বছরের বেশি সময় বন্ধ ছিল কর্ণফুলী নদীর ওপর নির্মিত কালুরঘাট রেলসেতু। কাজ শুরুর প্রায় ১৫ মাস পর আজ বাণিজ্যিকভাবে যানবাহন চলাচল শুরু হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে উন্মুক্ত যান চলাচলে টোল রাখেনি রেলওয়ে। সকাল ১০টায় সেতু দিয়ে সর্বোচ্চ আট ফুট উচ্চতার সব ধরনের যানবাহন চলাচল শুরু হবে।
রেলের প্রকৌশল ও সেতু বিভাগের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট জরাজীর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ কালুরঘাট সেতুটি ভারী ট্রেন চলাচলের জন্য সংস্কারকাজ শুরু করে রেলওয়ে। ৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আট মাসে সেতুটি সংস্কারের দায়িত্ব পায় ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। ২০২৩ সালের ১৬ জুন চুক্তি স্বাক্ষরের পর তিন মাসের মধ্যে সেতুটি ট্রেন চলাচলের উপযোগী এবং আট মাসের মধ্যে মানুষ পারাপার ও সব ধরনের যানবাহন চলাচলের উপযোগী করার কথা ছিল। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যানবাহন চলাচলের জন্য সেতুটি প্রস্তুত করতে ১৬ মাসেরও বেশি সময় নিয়েছে। ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটি দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. নাজমুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘টোল ছাড়াই আপাতত যানবাহন চলাচলের জন্য কালুরঘাট সেতু উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। সেতুতে যানবাহন চলাচলের জন্য শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বুয়েটের পরামর্শে সেতু দিয়ে বড় ট্রাক ও বাস চলাচল করতে পারবে না। ভূ-সম্পত্তি বিভাগ শিগগিরই রেলসেতু দিয়ে চলা যানবাহন থেকে টোল আরহণে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করবে।’
মূলত দোহাজারী-কক্সবাজার নতুন রেলপথ নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে আসার পর নতুন সেতু নির্মাণ না হওয়ায় কালুরঘাট সেতু সংস্কারের উদ্যোগ নেয় রেলওয়ে। ১৯৩১ সালে ব্রিটিশ আমলে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে নির্মিত কালুরঘাট সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে আগেই। বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক সাইফুল আমিনসহ তিনজনকে পরামর্শক হিসেবে সেতুটি সংস্কারের দায়িত্ব দেয়া হয়।
জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা সজল চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রেলসেতু হলেও ১৯৬২ সাল থেকে কালুরঘাট সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। আগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে সেতুর টোল আদায় হতো। সংস্কারের পর টোল আদায়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। আমরা প্রকৌশল বিভাগের কাছে সেতু দিয়ে কোন ধরনের যানবাহন চলবে, উচ্চতা ও ওজন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছি। প্রকৌশল বিভাগের মতামত পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হবে। তবে এখন হালকা যানবাহন চলাচলে টোল আদায় করা হবে না।’
ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের প্রকল্প পরিচালক মো. মেহেদী হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ট্রেন চলাচলের কাজ চুক্তি অনুযায়ী নভেম্বরের মধ্যেই শেষ করেছিলাম। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে যানবাহন চলাচলের কাজ শেষ করতে কিছুটা সময় লেগেছে।’










