তবে এ কার্ড চালু হলে বিএমইটি কার্ড আর প্রয়োজন হবে না বলেও জানান তিনি।
গতকাল মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ও মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রবাসী কার্ড হলে আর বিএমইটি কার্ড থাকবে না। একটা কার্ড দিয়ে প্রবাসীরা যেন সব সুবিধা নিতে পারেন সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। কারণ এত কার্ড দিয়ে কী করবে।’ প্রবাসী কার্ডে কী কী সুযোগ-সুবিধা থাকছে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখানে তারা কারেন্সি সুবিধাটা কীভাবে পেতে পারে, তাদের সহজ রেমিট্যান্স আনার ক্ষেত্রে কী বেনিফিট নিতে পারে, ব্যাংক পেমেন্টের গেটওয়ে কীভাবে হবে—এসব পর্যালোচনা চলছে। তাদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র, এ কার্ডের সঙ্গে ট্র্যাকিং থাকবে।’
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমি প্রথম দিন থেকে বলে আসছি, আমি যদি এখানে মন্ত্রী থাকি এখানে কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের সুযোগ থাকবে না। জিরো টলারেন্স। ইনশাআল্লাহ দীর্ঘদিন যেটা আপনারা শোনেননি ১০-১৫ দিন থেকে এক মাসের মধ্যে; সময়টা একটু বেশিও লাগতে পারে। তারপর আপনাদের সামনে এ প্রস্তাব দেখতে পাবেন, পরিষ্কার হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। আমাদের শ্রমবাজারটা খুলে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘এটাই (সিন্ডিকেটমুক্ত) আমার চ্যালেঞ্জ। এটা যদি না করতে পারি চলে যাব। আমি এটা স্পেশালভাবে নিচ্ছি এবং এটাই আমার চ্যালেঞ্জ।’
চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন—এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোনো নিউজ নেই। আমরা একটা এমওইউ করে আসছি, সেটা আপনারা জানেন।’
প্রবাসী কার্ড দিয়ে ভূমিসংক্রান্ত সেবা যাতে দেয়া যায়, সে বিষয়েও কাজ চলছে উল্লেখ করে আরিফুল হক বলেন, ‘তার জন্য আমরা এখনো ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলছি। যাতে কোনো প্রবাসীদের এ কার্ড দেখালে তাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয় এবং হাসপাতালে গেলে অন্তত তার আলাদা একটা প্রায়োরিটি থাকে, এসব জায়গায় আমরা একটা পরিবর্তন আনতে চাচ্ছি।’ অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরসন সেল গঠন বিষয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, এ আদেশ মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে। প্রবাসীরা এ অভিযোগ সেলে তাদের অভিযোগ জমা দিতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা হোয়াটসঅ্যাপেও তাদের অভিযোগ জমা নেব, সেই প্রসেস জানানো হবে।’
অফিস আদেশ অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব-যুগ্ম সচিবকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের এ সেল গঠন করা হয়েছে। সেলের অন্য সদস্যরা হলেন কল্যাণ অধিশাখার যুগ্ম সচিব-উপসচিব, আইন শাখার উপসচিব-সিনিয়র সহকারী সচিব, সেবা ও প্রোটোকল শাখার উপসচিব-সিনিয়র সহকারী সচিব এবং এনফোর্সমেন্ট-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব। এনফোর্সমেন্ট-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
এতে আরো বলা হয়, minister@probashi.gov.bd এবং minister.expat@gmail.com ই-মেইল ঠিকানায় প্রাপ্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সেলটি। এছাড়া প্রাপ্ত আবেদন ও অভিযোগ এবং সেগুলোর বিষয়ে গৃহীত ব্যবস্থা দৈনিক বা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে মন্ত্রী ও সচিবের কাছে উপস্থাপন করা হবে।










