সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলনের কারণে হুমকির মুখে রয়েছে উপজেলার বৃহৎ ইসলামগঞ্জ বাজার (প্রকাশিত বুধবারী বাজার) ও এলজিইডির একটি সড়ক। এলাকার লোকজন প্রতিবাদ জানালেও বালি উত্তোলন থেমে নেই। অভিযোগ রয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও একটি রাজনৈতিক মহলের ছত্রচ্ছায়ায় চলছে অবাধে বালি উত্তোলন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কোম্পানীগঞ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হচ্ছে ইসলামগঞ্জ। এ বাজার থেকে দয়ারবাজার পর্যন্ত যোগাযোগের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি রাস্তা রয়েছে। প্রভাবশালীরা বাজার ও রাস্তাসংলগ্ন প্রায় কোয়ার্টার কিলোমিটার এলাকা থেকে বালি উত্তোলন করায় হুমকির মুখে রয়েছে রাস্তাটি। এভাবে বালি উত্তোলন করলে রাস্তাটি যেকোনো সময় ধলাই নদগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে সেখানকার বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, স্থানীয় প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে সেখান থেকে রাতের আঁধারে বালি তোলা হচ্ছে। এর সঙ্গে একটি রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল জড়িত। ফলে কেউ প্রতিবাদ করলেই তাদের হেনস্থা হতে হয়।

রফিকুল ইসলাম নামের একজন বাসিন্দা জানান, গত তিন-চারদিন ধরে ধলাই নদে ঢলের পানি নেমেছে। এ সুযোগে প্রভাবশালীরা ওই এলাকা থেকে বালি উত্তোলনে তত্পর হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন রাত আড়াইটা-তিনটা থেকে ফজরের আজানের আগ পর্যন্ত সড়কসংলগ্ন স্থান থেকে বালি তোলা হয়। মঙ্গলবার রাতেও ৬০-৭০টি নৌকা ভরে ওই এলাকা থেকে বালি উত্তোলন করা হয়।

স্থানীয় একটি সূত্র দাবি করেছে রাস্তার পাশে নৌকা দিয়ে প্রতি রাতে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করা হলেও অভিযান চালানো হয় নদীর অন্য অংশে। লোক দেখানো অভিযানে দু-একজনকে আটক করা হলেও মূল জায়গায় অভিযানে যায় না পুলিশ।

সারী নদী বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক ও নদী গবেষক আব্দুল হাই আল হাদী বলেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বালি বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। এছাড়া, সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনাসংলগ্ন এলাকা থেকেও বালি উত্তোলনের ক্ষেত্রে বেশকিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সুকান্ত চক্রবর্তী জানান, ধলাই নদের লিজবহির্ভূত এলাকা থেকে বালি উত্তোলনের ব্যাপারে তারা তত্পর রয়েছেন। তাদের পক্ষ থেকে বাজার ও রাস্তা রক্ষার ব্যাপারে কোনো ত্রুটি করা হচ্ছে না জানিয়ে ওসি বলেন, কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও ও এসিল্যান্ড স্টেশনে নেই। এ অবস্থায় তাদের এককভাবে অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইনামুল কবির বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলব।