যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বিষয়ক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে নতুন একটি চুক্তি স্বাক্ষরে রাজি হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরকারি কর্মকর্তারা। এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনুমতি দিলেই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে। এ বিষয়ে এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসে শীর্ষ সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে বৈঠকের পরও এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। খবর রয়টার্স।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, যদি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকার প্রস্তাবিত চুক্তিটি অনুমোদন করেন, তাহলে এটি হবে যুদ্ধরত দুই দেশের শান্তিতে পৌঁছানোর পথে এযাবৎকালের গৃহীত সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে মতবিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ বিমান হামলার মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট-ইরান যুদ্ধ। টানা ৪০ দিন সংঘাত চলার পর গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখনও সেই বিরতিই চলছে।

যুদ্ধবিরতি বাড়াতে প্রস্তাবিত নতুন চুক্তিটি নিয়ে প্রথম সংবাদ প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস। এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প এখনও এ চুক্তিটি অনুমোদন করেননি এবং ইরানের কোনো কর্মকর্তা বা সরকারি মুখপাত্র এ ব্যাপারে এখনও কোনো সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করেননি।

ইরানের সরকারি প্রতিনিধি দল, যে দলটির সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন, তাদের বরাত দিয়ে দেশটির আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তিটির খসড়া এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও প্রায় একই কথা বলেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেছেন, “আমরা এখনও চূড়ান্ত কোনো জাগায় যাইনি, তবে খুব কাছাকাছি আছি এবং আমাদের তৎপরতা অব্যাহত আছে।তাই এখনই আমি কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছি না, তবে বর্তমানে আমরা যেখানে আছি— তাতে আমার খুব ভালো লাগছে।”