ওমানে ঘূর্ণিঝড় ‘শাহিন’র আঘাতে লক্ষ্মীপুরের একই গ্রামের পরস্পর আত্মীয় তিন প্রবাসী নিহত হয়েছেন। বুধবার তাদের মরদেহ শনাক্ত করে ওমান পুলিশ। গতকাল বিকালে সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, তার ইউনিয়নের এ তিন প্রবাসী নিহত হয়েছেন। পরিবারের লোকজনকে সমবেদনা জানানো হয়েছে। প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে আনার জন্য চেষ্টা চলছে।
নিহতরা হলেন, সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের আব্দুল করিম চেরাঙ্গ বাড়ির মৃত নুরুল আমিনের ছেলে শামছুল ইসলাম (৫৫), চাঁন
কাজী বাড়ির শুক্কুর উল্লাহর ছেলে জিল্লাল হোসেন (৪৫) ও মিঝি বাড়ির আব্দুস শহিদের ছেলে আমজাদ হোসেন হূদয় (২৮)। শামছুল ইসলাম ও আমজাদ হোসেন হূদয় মামা-ভাগিনা। জিল্লাল হোসেন ও শামছুল ইসলাম সম্পর্কে চাচাতো ভাই।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহতরা ওমানের সাহামে উম্মে ওয়াদি লেবান পারপার নামক স্থানে খেজুর বাগানে কাজ করতেন। ঘূর্ণিঝড় শুরু হলে তাদের বাতাস ও পানির স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়ভাবে খোঁজাখুঁজির পর তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহের সন্ধান মেলে।
নিহত আমজাদ হোসেন হূদয়ের বাবা আব্দুস শহিদ জানান, তার ছেলে ওমানের সাহামে উম্মে ওয়াদি লেবান পারপার নামক স্থানে খেজুর বাগানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। তার নিকটাত্মীয় অন্য দুজনও একই এলাকায় কাজ করত। রোববার ঝড়ের পর থেকে তারা নিখোঁজ ছিল। ঝড়ে আসা পানি নেমে যাওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে শামছুল ইসলাম ও জিল্লাল হোসেনের মরদেহ শনাক্ত করে প্রবাসীরা পুলিশকে জানান। অন্যদিকে বুধবার তার ছেলে আমজাদ হোসেন হূদয়ের মরদেহ পাওয়া যায়।
নিহত শামছুল ইসলাম ৩০ বছর ওমানপ্রবাসী ছিলেন। তার তিন মেয়ে, এক ছেলে, স্ত্রী রয়েছে। নিহত জিল্লাল হোসেন ১৫ বছর ওমানে রয়েছেন। তার ছেলে, মেয়ে ও স্ত্রী রয়েছে। অন্যদিকে মৃত আমজাদ হোসেন হূদয়ের তিন বোন, এক ভাই ও বাবা-মা রয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা ছিলেন পরিবারে অর্থ উপার্জনের একমাত্র ভরসা। তাদের মৃত্যুর খবরে পরিবারগুলো পথে বসার উপক্রম হয়েছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ বলেন, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া তাদের পরিবারের জন্য প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রসঙ্গত, রোববার ওমানে ঘূর্ণিঝড় ‘শাহিন’র কারণে ঝড়ো বাতাসের সঙ্গে তীব্র বৃষ্টিপাতে অনেক এলাকা প্লাবিত হয়। বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২০-১৫০ কিলোমিটার। ওই সময় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ১০ মিটার উঁচু ঢেউ তৈরি হয়।










