সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতারা স্লুইস গেটসংলগ্ন অস্থায়ী রিং বাঁধটি শনিবার রাতে কেটে দিয়েছেন মৎস্য শিকারি ও নৌযান শ্রমিকরা। এতে তিন জেলার আট উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। মাছ আহরণ ও শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌযান অবাধ চলাচলের সুবিধার জন্য এ বাঁধ পরিকল্পিতভাবে কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রাতের আঁধারে বাঁধ কেটে দেয়ায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, নাটোর জেলার গুরুদাসপুর, সিংড়া ও বড়াইগ্রাম, পাবনা জেলার চাটমোহর, ফরিদপুর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলাসহ চলনবিল অঞ্চলের আট উপজেলার কমপক্ষে ৪৫ হাজার হেক্টর জমি বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। এতে ওইসব এলাকার জমিতে লাগানো গামা ঘাস, নেপিয়ার, বোনা আমন ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া, আব্দুল আলীম, নীরব হোসেন, মুন্নাফ হোসেন ও চরাচিথুলিয়া গ্রামের আবু সাইফ তানভির রহমান অভিযোগ করে বলেন, এক সপ্তাহ থেকে বন্যার পানি বাড়ছে। এ সুযোগে শনিবার রাতে এসব এলাকার মৎস্য শিকারিরা অধিক পরিমাণে মাছ আহরণ করা ও শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌযানের মাঝিরা অবাধ চলাচলের সুবিধার জন্য এ বালির বাঁধটি কেটে দিয়েছে এবং এ বাঁধের পাইলিংয়ের জন্য ব্যবহ্নত বাঁশ ও বালির বস্তাও নিয়ে গেছে।
জানা যায়, সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৩০ বছর ধরে এলাকার ফসল রক্ষার জন্য প্রতি বছরেই বালি দিয়ে অস্থায়ী এ বাঁধ নির্মাণ করে। প্রতি বছরের মতো এবারো ২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। গত ২৮ জুন এ বাঁধের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে পাহারায় নিয়োজিত জনবল সরিয়ে নেয়।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছরেই ‘ইরি-বোরো’
ফসল রক্ষার্থে শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নে ওই অস্থায়ী রিং বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। ধান কাটা হয়ে যাওয়ায় পাহারা সরিয়ে নেয়ায় স্থানীয়রা বাঁধটি কেটে দিয়েছে। তবে তিনি বলেন, ওখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে সমস্যাটি আর থাকবে না।










