ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির দুই গ্রুপে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বিকালে শহরের পাওয়ার হাউজ রোড এলাকায় বিবদমান দুই গ্রুপ পৃথক কর্মসূচি পালনকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।

জানা যায়, ১০ আগস্ট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে দলের হাইকমান্ড। এরপর থেকেই বিএনপি একাংশের নেতাকর্মীরা কমিটি বাতিল দাবিতে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এরই জের ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গতকাল বিকালে নবগঠিত কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ পৌর এলাকার শেখ হাসিনা সড়ক সেতু এলাকা থেকে একটি আনন্দমিছিল বের করেন। অন্যদিকে একই সময়ে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকনের নেতৃত্বে পাওয়ার হাউজ রোডে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও কেক কাটার আয়োজন করা হয়। আনন্দমিছিল বের হওয়ার পর উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। আধা ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মাহমুদসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। এ সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় একজনকে আটক করে পুলিশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি আসলাম হোসাইন জানান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বিকালে এক পক্ষ আনন্দমিছিল বের করে এবং অন্য পক্ষ কোকোর জন্মদিন পালনের কথা বললেও মূলত আনন্দমিছিলকে প্রতিহত করার জন্য মাঠে নামে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রেলসেতুতে নিরাপত্তা জোরদার: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় রেলসেতু পারাপারের সময় চারজন নিহত হওয়ার পর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রেলসেতুটির উভয় পাশে দেয়া হয়েছে বাঁশের নিরাপত্তা বেষ্টনী। পাশাপাশি রেললাইন এলাকায় মানুষের চলাচল নিরাপদ রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন খন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঢাকা-সিলেট রেলপথের খরমপুর রেলসেতুটির উভয় পাশে বাঁশ দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী দেয়া হয়েছে যাতে রেলসেতুর ওপর দিয়ে কেউ চলাচল করতে না পারে। ট্রেন আসার সময় বাঁশগুলো সরিয়ে ফেলা হবে, চলে গেলে আবার বাঁশ বেঁধে দেয়া হবে।’