সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। কয়েক দিন ধরে সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হলেও তাতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্পেটিংয়ে বিটুমিনের পরিমাণ এতই কম দিয়েছে যে হাত দিয়ে সড়কের কার্পেটিং উঠিয়ে ফেলা যাচ্ছে। এতে সংস্কারের নামে সরকারের অর্থই অপচয় হচ্ছে, স্থানীয়দের উপকার হচ্ছে না।
শ্যামনগর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শ্যামনগর উপজেলার সোনার মোড় ফুলতলা থেকে চিংড়িখালী পর্যন্ত ৩ দশমিক ৪০৫ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২-এর অধীনে সংস্কারকাজ শুরু হয়। কাজের ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৮৫ লাখ ৮২ হাজার ১৯৯ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঢাকার রাবেয়া ট্রেডার্সকে কার্যাদেশ দেয়া হয় গত ২০১৬ সালের ৭ ডিসেম্বর। এক বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি নানা অজুহাত দেখিয়ে গত বছর পর্যন্ত সময়ক্ষেপণ করে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী খান জানান, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের লোকজন সড়কের কার্পেটিংয়ে বিটুমিনের পরিমাণ খুবই কম দিয়েছে। ফলে এলাকাবাসী সড়কের কার্পেটিং হাত দিয়ে তুলে ফেলেছে। তিনি বলেন, মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক সংস্কারকাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। তাছাড়া বর্তমান যে কাজ করা হচ্ছে তা অত্যন্ত নিম্নমানের।
চিংড়িখালী গ্রামের বাসিন্দা আবুবকর ও বাবু গাজী জানান, সড়কের কার্পেটিংয়ে বিটুমিনের ব্যবহার খুবই কম হচ্ছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে কার্পেটিং ওঠানো যাচ্ছে। এভাবে সংস্কারকাজ করলে শুধু সরকারের অর্থই ব্যয় হবে, সড়ক স্থায়ী হবে না।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নারায়ন চন্দ্র সরকার বলেন, এক বছর হয়েছে সাতক্ষীরায় যোগদান করেছি।
শ্যামনগর উপজেলার সোনার মোড় ফুলতলা থেকে চিংড়িখালী পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক গত বছরেও শেষ হয়নি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল ও তাদের প্রতিষ্ঠান কালো তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়। পরে তারা ক্ষমা চেয়ে আগামী জুনের মধ্যে কাজ শেষ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর পর থেকে কাজ শুরু হয়েছে।
নিম্নমানের কাজের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজ যাচাই করে এসেছি। এলাকাবাসীর অভিযোগ সঠিক নয়।
এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাবেয়া ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী রিপন হোসেন বলেন, সড়কটি মাছের ঘের এলাকায় হওয়ায় মাটি বা অন্যান্য মালপত্র পরিবহন করতে সমস্যা হতো। ফলে সময় লেগেছে বেশি। তবে আগামী জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। কাজের মান যথেষ্ট ভালো, স্থানীয়দের অভিযোগ ঠিক নয়।










