ঠিকভাবে নির্বাচন করলে শেখ হাসিনাকে আজ পালাতে হতো না বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। চট্টগ্রাম নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে গতকাল অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচনে হারতে পারেন, এ ঝুঁকি তিনি নিলেন না। ক্ষমতায় চিরস্থায়ীভাবে থাকার জন্য সব প্রতিষ্ঠান শেষ করেছেন।’
‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পর্যালোচনা ও জনতার অধিকার’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে গণতান্ত্রিক অধিকার আন্দোলন চট্টগ্রাম। এতে ‘গণ-অভ্যুত্থান, বৈষম্য ও ভবিষ্যতে করণীয়’ বিষয়ে দীর্ঘ বক্তৃতা দেন আনু মুহাম্মদ। শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য শেখ হাসিনার সরকার নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। ব্যাংক লুটপাট করে কিছু গোষ্ঠী বিত্ত ও ক্ষমতা বাড়িয়েছে। সিভিল ও মিলিটারি ব্যুরোক্রেসির হাতে অসম্ভব ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।’
ক্ষমতায় চিরস্থায়ীভাবে থাকার জন্য বিগত সরকার বিভিন্ন অসম চুক্তি করেছিল বলে অভিযোগ করেন আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া যা চেয়েছে, তার চেয়ে বেশি দিয়েছে সরকার। রামপালে সুন্দরবনবিনাশী প্রকল্প, আদানির সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন শেখ হাসিনা। টিকে থাকার জন্য ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করা হয়েছিল। বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দেয়া হয়েছিল তাদের। এমনকি পাঠ্যপুস্তক থেকে গুরুত্বপূর্ণ লেখা বাদ দেয়া হয়েছে।
গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও নিহতের পূর্ণাঙ্গ তালিকা না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পর ৫৩ বছর পার হয়েছে। অথচ এখনো শহীদদের তালিকা হয়নি। মুক্তিযোদ্ধার তালিকা হয়নি। যে সরকার আসে, সে সরকারই নতুন নতুন তালিকা বানায়। এখন পর্যন্ত ঠিকমতো রাজাকারদের তালিকা হয়নি। এ অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায়, এবারের গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও নিহতের তালিকা তৈরি করতে হবে। আহতদের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।’
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন জায়গায় ভাংচুর ও হামলার ঘটনায় নিন্দা জানান আনু মুহাম্মদ। দেশ নিয়ে নিজের আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে সমাজে দিনে-রাতে নারীরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারেন, সেটিই সভ্য সমাজ। এটি না পারলে সে সমাজকে কোনোভাবেই সভ্য বলা যাবে না। আমাদের এমন এক জায়গায় পৌঁছতে হবে, যেখানে ধর্ম, লিঙ্গ, জাতি, শ্রেণী ও পরিচয়ের কারণে কোনো মানুষ বৈষম্যের শিকার হবে না।’










