প্রায় দুই বছর ধরে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেই চক্ষু চিকিৎসক। ফলে চোখের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের ফিরে যেতে হচ্ছে বিনা চিকিৎসায়। জেলার বাইরে থেকে যেসব চিকিৎসক বিভিন্ন ক্লিনিকে এসে রোগী দেখেন, তাদের ফি বেশি হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষকে পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। অন্যদিকে চিকিৎসক না থাকায় চক্ষু বিভাগের লাখ লাখ টাকার যন্ত্রাংশ অকেজো হয়ে পড়ছে।

সদর হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগের তথ্যমতে, ২০১৯ সাল থেকে হাসপাতালে চক্ষু চিকিৎসকের পদটি শূন্য। দুই বছর পার হলেও মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগ দেয়া হয়নি কোনো চক্ষু বিশেষজ্ঞ। প্রতি মাসে শূন্য পদ উল্লেখ করে তালিকা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, জেলা সদর হাসপাতালের চক্ষু বিভাগ সচল করতে দিচ্ছে না একটি সিন্ডিকেট। এ সুযোগে তারা বেসরকারি ক্লিনিকগুলোয় গলাকাটা দামে সেবা দিচ্ছে।

হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের সামনে কথা হয় ৪৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ নাসির উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, অনেক দিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছি। গরিব বলে সদর হাসপাতালে আসি ডাক্তার দেখাতে। সবাই বলল, চোখের ডাক্তার নেই। বেসরকারি ক্লিনিকে ডাক্তারের ভিজিট কমপক্ষে ৫০০ টাকা। এছাড়া ডাক্তারও আসেন সপ্তাহে একদিন বা দুদিন। ডাক্তার পাওয়া গেলেও টাকার অভাবে চিকিৎসা নিতে পারি না।

আজিজা আনজুম নামের আরেক রোগী বলেন, চোখের ডাক্তার দেখাতে টেকনাফ থেকে অনেক কষ্ট করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে এসেছি। এসে শুনলাম হাসপাতালে চোখের ডাক্তার নেই। তাই চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে।

উখিয়া রাজাপালং এলাকার দিনমজুর হাসান আলী বলেন, অনেক দিন ধরেই হাসপাতালে আসছি। টিকিট কাউন্টারে গেলেই বলে চোখের ডাক্তার নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে ৮০-৯০ জন রোগী চোখের ডাক্তারের টিকিট চান। হাসপাতালে চোখের ডাক্তার নেই কয়েক বছর ধরে। তাই আমরা টিকিট বিক্রি করি না। প্রতিদিনই ডাক্তার দেখাতে এসে রোগীরা ফিরে যান।

জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শাহিন আবদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ২০১৯ সালে ডা. গিয়াস উদ্দিন অবসরে যাওয়ার পর থেকে হাসপাতালে চক্ষু চিকিৎসকের পদটি শূন্য। প্রতি মাসে মন্ত্রণালয়ে শূন্য পদের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়।

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধবায়ক ডা. সুমন বড়ুয়া বলেন, হাসপাতালের শূন্য পদগুলোর জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর চাহিদাপত্র পাঠানো হচ্ছে বারবার। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাইনি। হাসপাতালে অতিদ্রুত একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন।