বিদ্যালয়ের অফিস সহকারীসহ তিনটি পদে নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত পরীক্ষা ছিল ৪ নভেম্বর। সেই লিখিত পরীক্ষার চিঠি আসে ৩ নভেম্বর রাতে। ফলে প্রস্তুতির অভাব আর সঠিক সময়ে চিঠি না পাওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি সাত চাকরিপ্রত্যাশী। ঘটনাটি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাউসা আরএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, নীতিমালা অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণের ৭২ ঘণ্টা আগে চাকরিপ্রত্যাশীদের বাড়িতে চিঠি পাঠানোর কথা। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাঠিয়েছে পরীক্ষা গ্রহণের আগের রাতে। ফলে ১৬ জন আবেদনকারীর মধ্যে নয়জন অংশ নিতে পারেননি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির যোগসাজশে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিজেদের পছন্দের লোকদের নিয়োগ দিতে এভাবেই লিখিত পরীক্ষার আয়োজন করা হয় বলে দাবি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা ভুক্তভোগীদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঝিকরগাছা উপজেলার বাউসা আরএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া—এ তিন পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ১৬ চাকরিপ্রত্যাশী আবেদন করেন। এর মধ্যে অফিস সহকারী পদে ১০, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদে ছয়জন। আবেদনকারীদের মধ্যে নয়জনকে নিয়ে যশোর শহরের সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নিয়োগ পরীক্ষার আগেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল হক ও বিদ্যালয়ের সভাপতি মাহাবুর রহমান তিনটি পদে মোটা অংকের টাকা বাণিজ্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি অপকৌশল হিসেবে নামমাত্র নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত করেন। এরই অংশ হিসেবে যাতে নিয়োগপ্রত্যাশীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারেন সেজন্য পরীক্ষা গ্রহণের আগের রাতে চিঠি দেয়া হয় বলে অভিযোগ।

অফিস সহকারী পদে চাকরির আবেদনকারী ইলিয়াস আহেমদ দাবি করেন, নিয়োগ নিয়ে বিদ্যালয়ে অনেক ঘাপলা রয়েছে। পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেবেন বলে বিদ্যালয়ের সভাপতি-প্রধান শিক্ষক আলাদাভাবে মিটিং করেছেন পছন্দের ব্যক্তিদের সঙ্গে। অফিস সহকারী পদে তাদের নিজেদের ব্যক্তি জহির নামে একজনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকায় চূড়ান্ত করেন তারা। নামমাত্র পরীক্ষা গ্রহণের জন্য তারা চিঠি দিয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরিত চিঠিতে সময় ১ নভেম্বর নির্ধারিত থাকলেও একই পাড়ার বাসিন্দা হওয়ার পরও সেই চিঠি হাতে  পাই পরীক্ষা গ্রহণের আগের রাতে।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের দাবি, চিঠিতে ১ নভেম্বর থাকলেও পৌঁছতে তার দপ্তরি ভুল করেছেন। তবে বিধিগত প্রক্রিয়ায় নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে কোনো বাণিজ্য করা হয়নি। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাহাবুর রহমানের মন্তব্যের জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।