লক্ষ্মীপুরে রাশেদা বেগম নামে এক গৃহবধূকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর শরীরের ৫০ শতাংশই আগুনে পুড়ে গেছে। গতকাল বিকালে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরউভূতি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল গৃহবধূর দেবরের শ্বশুর মাইন উদ্দিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে বিয়েতে শ্বশুরের কাছ থেকে উপহার পাওয়া একটি স্বর্ণের চেইন বড় ভাবি রাশেদার কাছে রাখেন দেবর ফারুক। এতে রাশেদার ওপর ক্ষিপ্ত হন মাইন উদ্দিন। এদিকে রাশেদার ঘরে স্বর্ণের কানের দুলসহ চেইনটি কৌশলে চুরি করে নিয়ে যায় দেবরের স্ত্রী। পরে রাশেদার কাছে চেইনটি ফেরত চান দেবর ফারুক। কিন্তু চেইনটি ফেরত দিতে না পারায় ছয় মাস আগে দেবরের শ্বশুরবাড়ির লোকজন রাশেদাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এ নিয়ে রাশেদার বাবা লক্ষ্মীপুর আদালতে মামলাও করেন বলে জানায় স্বজনরা। এ ঘটনা মীমাংসার জন্য মঙ্গলবার রাশেদার স্বামীর বাড়ি আসেন ফারুকের শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বৈঠকে মতের অমিল হওয়ায় আবারো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ফারুকের শ্বশুর মাইন উদ্দিন। এক পর্যায়ে কয়েকজন মিলে হত্যার উদ্দেশ্যে রাশেদার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে মুমূর্ষ অবস্থায় গৃহবধূকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সদর হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, গৃহবধূ রাশেদা বেগমের শরীরের ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে চারজনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামি মাইন উদ্দিনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ তত্পর রয়েছে।










