শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনায় নির্বাচনী ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের পানির ট্যাংক এলাকায় গতকাল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে গত বুধবার নির্বাচনী ইশতাহার পাঠ অনুষ্ঠানে বসার আসন নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে সংঘর্ষে জড়ান স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় নিহত হন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম। তিনি ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক ছিলেন।

এ বিষয়ে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনা ইঙ্গিত করে অসহিষ্ণুতা। এ ঘটনা ইঙ্গিত করে জনগণের ওপর আস্থা নেই। এ ঘটনা ইঙ্গিত করে, অন্যের বিজয় দেখে নিজের সহ্য হয় না।’

এ ঘটনায় নির্বাচনী ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের কনসার্ন জানিয়েছি। আমরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। প্রতিবাদ করে যাব। আমাদের অধিকার, আমাদের জনগণের অধিকার, আমরা আর কাউকেই টানাটানি করার সুযোগ দেব না।’

অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির বলেন, ‘একটা নতুন বাংলাদেশের অপেক্ষায় আছি। নতুন বাংলাদেশ মানে ভূগোল বদলাবে না। আমাদের চরিত্র বদলাবে, দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে। ৫৪ বছর যে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেশ চালানো হয়েছে, মাঝে মাঝে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ সময় জনগণের ওপর জুলুম করা হয়েছে। ফ্যাসিজম চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। ওটা আমরা চাই না। আমরা চাই পরিবর্তন। ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক সমাজ চাই।’

বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও অপরাধমুক্ত শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়তে সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১১ দলের কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিবর্তনের সরকার গঠন করা হবে।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের এ নির্বাচনী লড়াই কোনো দল, ব্যক্তি বা পরিবারের জন্য নয়। ১৮ কোটি মানুষের কল্যাণের জন্য। নির্বাচনে আমরা জামায়াতের একক বিজয় চাই না। আমরা চাই, জনগণের সামগ্রিক বিজয়।’

এর আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বুধবার দেয়া এক স্ট্যাটাসে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেছিলেন, ‘এখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীর ভূমিকা জনগণ দেখতে চায়, তারা কেমন নির্বাচন জাতিকে উপহার দেয়। আর যারা খুনের নেশায় মত্ত হয়েছে, তাদের পাকড়াও করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া দরকার। আমরা চাই দ্রুত তাদের পাকড়াও করা হোক। কোনো ধরনের গড়িমসি জাতি বরদাশত করবে না।’