দেশের ওষুধ শিল্পের বিকাশ, রফতানি সম্প্রসারণ ও সুলভ মূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং প্রতিবন্ধকতা দূর করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প (বাপি) সমিতির সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, শিল্পের বিকাশ, উন্নয়ন, রফতানি বৃদ্ধি এবং মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে ওষুধ পৌঁছে দেয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। ওষুধ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে ভালো অবস্থানে ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টাও ওষুধ রফতানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন বলেন জানান আব্দুল মুক্তাদির। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতের নীতিনির্ধারকরাও এ শিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ওষুধ খাতে বাংলাদেশের যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা কাজে লাগাতে আমরা আশাবাদী। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১৪০টি দেশে বাংলাদেশ থেকে ওষুধ রফতানি হচ্ছে। রফতানির পরিমাণ এখনো সীমিত হলেও ভবিষ্যতে তা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে আশা করছি।
তিনি আরো বলেন, প্রচলিত ওষুধের পাশাপাশি ভ্যাকসিন, অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (এপিআই) এবং বায়োলজিক্যাল পণ্য রফতানিরও বড় সুযোগ রয়েছে। এ খাতে অচিরেই অগ্রগতি সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ শিল্পের প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান প্রসঙ্গে বাপি সভাপতি বলেন, যেসব সমস্যার কথা আমরা তুলে ধরেছি, অধিকাংশ বিষয়েই সরকার অবগত। বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে বৈঠকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে।
নীতি সহায়তা বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আলোচনার বড় অংশই ছিল কারিগরি সহায়তাবিষয়ক। এর মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ম্যাচিউরিটি লেভেল-৩ (এমএল-৩) অর্জন, বায়োলজিকস খাতের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওষুধ খাতকে এগিয়ে নেয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি আমলে নিয়ে সে অনুযায়ী দেশের ওষুধ শিল্পকে গাইড করবে।
বৈঠকে এলডিসি উত্তরণের পর ট্রিপস সুবিধা-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলার কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা কিছু ওষুধের নিবন্ধন সংক্রান্ত বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আব্দুল মুক্তাদির জানান, তিনি অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পুরো বিষয়টি শুনেছেন এবং বাস্তবায়নের জন্য টু দ্য পয়েন্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।










