চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ (সিইপিজেড) এলাকার 'অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড ও জিহং মেডিকেল কোম্পানি লিমিটেডের কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস, সেনা, নৌবাহিনীর ও বিমানবাহিনীর সঙ্গে যোগ দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করতে ২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য যোগ দিয়েছে। কারখানা দুটিতে হাসপাতালে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও তোয়ালে তৈরি করা হতো। প্রচুর পরিমাণে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং এর তীব্রতাও অনেক বেশি। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টায়ও এ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এখনও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুন লাগা প্রতিষ্ঠানটিতে তোয়ালেসহ হাসপাতালে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি তৈরি করা হয়। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত পরে জানানো হবে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনও হতাহত হয়নি।’

ফায়ার সার্ভিসের বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্র জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের বন্দর, আগ্রাবাদ, ইপিজেড, কালুরঘাট ও চন্দনপুরা স্টেশনের ১৯টি ইউনিট।

সিইপিজেড সূত্রে জানা গেছে, আগুন লেগেছে অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড ও জিহং মেডিকেল কোম্পানি লিমিটেডের গুদামে। এর মধ্যে অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল তোয়ালে ও ক্যাপ উৎপাদন করে আর জিহং মেডিকেল সার্জিকেল গাউন তৈরির কারখানা। সাততলা ভবনের সর্বোচ্চ তলায় অবস্থিত দুটি কারখানার গুদাম থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুরো ভবনে প্রায় ৭০০ শ্রমিক কাজ করলেও এ দুর্ঘটনায় এখনো কেউ হতাহতের খবর মিলেনি। ৬ ও ৭ তলা গুদাম হিসেবে ব্যবহার হয়।

চট্টগ্রাম ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুস সোবহান বলেন, 'কারখানার ৭ম তলায় আগুন লেগেছে। যেখানে আগুনের সূত্রপাত সে জায়গাটি মূলত গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শ্রমিকরা সাধারণত ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় কাজ করেন। ভেতরে এখন কোন শ্রমিক নেই। সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।'

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বলেন, সাততলা ভবনের ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম তলায় আগুন লেগেছে। এ পর্যন্ত ১৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।