দেশের বিভিন্ন স্থানে পৃথক বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল কুষ্টিয়া, পাবনা, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলায় প্রাণহানির এসব ঘটনা ঘটে। বজ্রপাতে আরো কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—
কুষ্টিয়া: জেলার দৌলতপুর ও সদর উপজেলায় বজ্রপাতে দুজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন দৌলতপুরের আরোজ আলী (২৮) ও সদর উপজেলার রওশন আলী (নুশু)। এ ঘটনায় আহত তিনজন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া দৌলতপুরে রিফাইতপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে বাড়ির পাশে নদীর ধারে বসে ছিলেন আরোজ আলী। এ সময় বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের দহকুলা কারিগরপাড়া এলাকায় মাঠে কাজ করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে রওশন আলীসহ চারজন গুরুতর আহত হন। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক রওশন আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।
নেত্রকোনা: খালিয়াজুরীর পাউকাটা হাওরে হাঁস চরাতে গিয়ে বজ্রপাতে শফিকুল মিয়া (৩০) নামের এক খামার মালিকের মৃত্যু হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে হাওরে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গতকাল মেঘলা আকাশ থাকায় সকাল থেকেই গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই শফিকুল মিয়া তার খামার থেকে হাঁসের পাল নিয়ে পাউকাটা হাওরে যান। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
পাবনা: ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের বিলকেদার চরে কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতে রকিবুল ইসলাম (৫৫) নামের এক কৃষক নিহত হয়েছেন। এতে শামসুল আলম নামের আরেকজন দগ্ধ হন।
সুনামগঞ্জ: তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরে নৌযানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে শিপু মিয়া (২৭) নামের এক নৌযান শ্রমিক নিহত হয়েছেন। তিনি পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
হবিগঞ্জ: মাধবপুরের নোয়াহাটি এলাকায় কৃষিকাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে লিটন সরকার নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি নিজ মাঠে কৃষিকাজে ব্যস্ত ছিলেন।
স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও থানাগুলো থেকে বজ্রপাতে নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। অনেক স্থানে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারগুলোকে নিয়ম অনুযায়ী সহায়তা দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।










