জোটগত সিদ্ধান্তের কারণে গাইবান্ধার
পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে জাতীয় পার্টিকে (জাপা) দুটিতে ছাড় দেয় আওয়ামী লীগ। তবে ওই
দুটি আসনের একটিতেও জয় পাননি লাঙ্গলের প্রার্থীরা।
আসন দুটি হলো দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) ও গাইবান্ধা-২ (সদর)। এখান থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে
নেন ক্ষমতাসীন দলের প্রতীকে লড়তে চাওয়া প্রার্থীরা। কিন্তু বেসরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে,
দুটি আসনেই জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে আওয়ামী
লীগ মনোনীত প্রার্থী ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফরুজা বারী। দলীয় সিদ্ধান্তের
ফলে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন তিনি। এরপর এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বী
হিসেবে আসেন আফরুজা বারীর মেয়ে নাহিদা নিগার। গতকাল পর্যন্ত জোটগত কারণে জাপা প্রার্থী
শামীম হায়দার পাটোয়ারী আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও বিপুল ভোটে জয় পান নাহিদা নিগার। এ
স্বতন্ত্র প্রার্থী পান ৬৬ হাজার ৪৯ ভোট। শামীম হায়দার পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৪৯১ ভোট।
অন্যদিকে গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনেও একই
চিত্র দেখা যায়। এখানে আওয়ামী লীগ থেকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনবারের নির্বাচিত
সংসদ সদস্য হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি। তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলে স্বতন্ত্র
প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ সরোয়ার
কবীর। এ আসনে জাপার প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রশিদ সরকার। তার চেয়ে তিন হাজার ১৫৩ ভোট
বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন সরোয়ার কবীর।
এছাড়া গাইবান্ধার অন্য তিনটি আসনে জয়
পেয়েছে আওয়ামী লীগ। গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের উম্মে
কুলসুম স্মৃতি পেয়েছেন ৪১ হাজার ১১৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মফিজুল হক সরকার
পেয়েছেন ২২ হাজার ৮১২ ভোট। গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের আবুল
কালাম আজাদ ২ লাখ ১১ হাজার ৭১ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (স্বতন্ত্র) মনোয়ার হোসেন
চৌধুরী পেয়েছেন ২৭ হাজার ৪৫০ ভোট। গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের
মাহমুদ হাসান রিপন পেয়েছেন এক লাখ ৮ হাজার ২৯ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফারজানা রাব্বী
বুবলী পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৩০৮ ভোট।









