লক্ষ্মীপুর পৌর শহরে ডাকাত দলের গাড়ির নিচে চাপা পড়ে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো দুজন। এ ঘটনায় দুই ডাকাতকে আটক করেছে পুলিশ।

গতকাল বুধবার (৭ জুন) রাত ৮টার দিকে পৌর শহরের কলেজ রোডের চৌধুরী সুপার মার্কেটের আর কে শিল্পালয়ে ডাকাতরা হানা দেয়। এ সময় স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও ককটেল ফাটিয়ে দোকানে লুটপাট করা হয়।

ডাকাতি শেষে পিকআপ ভ্যানে করে পালাতে গেলে ভ্যান চাপায় তিন পথচারী আহত হন। আহতদের সদর হাসপাতালে নিলে সফি উল্যাহ (৬০) নামে একজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

আহত স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে সদর হাসপাতাল থেকে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত স্বর্ণ ব্যবসায়ীর নাম অপু কর্মকার। নিহত সফি উল্যা সদর উপজেলার পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের ইটের পুল এলাকার পানাম বাড়ির বাসিন্দা এবং অপর আহত ইসমাইল হোসেনসহ দুজন একই এলাকার বাসিন্দা বলে জানা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ীরা জানান, রাত ৮টার দিকে একটি পিকআপ যোগে ৮-১০ জন মুখোশধারী ডাকাত চৌধুরী সুপার মার্কেটের সামনে অতর্কিত ককটেল বিস্ফোরণ ঘটালে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা আর কে শিল্পালয়ে ঢুকে অপু কর্মকার ও তার ছেলে অমিত কর্মকারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। একপর্যায়ে স্বর্ণের দোকানে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে তারা। এ সময় অপুর চিৎকার শুনে আশপাশের ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এলে ডাকাতরা ককটেল ফাটিয়ে পালিয়ে যায়।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ডাকাতি ও পিকআপ ভ্যান চাপায় নিহতের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

তবে কী পরিমাণ স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে নির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি তিনি।

এ ঘটনায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুর স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হরি হাল পাল।

লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল-সদর) মো. সোহেল রানা বলেন, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য জানা যাবে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।