ঈদুল আজহার আনন্দের দিনে রাজধানীতে কোরবানি দিতে গিয়ে অসাবধানতা ও পশুর আকস্মিক আক্রমণে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন বহু মানুষ। কোরবানির পশু নিয়ন্ত্রণ ও জবাই করতে গিয়ে গরুর লাথি, গুঁতা ও দড়ির টানে হাত-পা ভাঙা, আঙুল কাটা এবং রগ ছিঁড়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক আঘাত নিয়ে রাজধানীতে চিকিৎসা নিয়েছেন ১১৩ জন। এদের বিকেল ৩টার মধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে (ঢামেক) ৮০ ও
পঙ্গু হাসপাতালে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ৩৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহতরা পুরান ঢাকার নারিন্দা, ওয়ারী, লালবাগ, কোতোয়ালি, সূত্রাপুর, চকবাজার, হাজারীবাগ, বংশালসহ সবুজবাগ, উত্তরা, বাড্ডা, ধানমণ্ডি, কলাবাগান, মিরপুর ও পল্লবী এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
ঢাকার তুরাগ থেকে গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন মামুন তালুকদার। গরুর গুঁতায় তিনি তার বাম হাতের দুটি আঙুল হারিয়েছেন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মামুন তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘অনেক চেতা গরু। অলরেডি কিনে আনার সময় আমাকে তিনবার ফেলে দিয়েছে। তারপর গরুর লগে যুদ্ধ করে আমরা চার পাঁচজন আহত হয়ে বাসায় নিয়ে আসছি। কোরবানির জন্য বের করে গাছের সঙ্গে একটা বান দিয়েছি। আরেকটা বান দেব এমন সময় আমাকে গোতা দিতে গেছে আর আমার হাট (হাত) টিনের উপর পড়েছে। এমন সময় গরু গুঁতা দেছে, আর আমার দুইটা আঙুল ছিল টিনের উপর, আঙুল দুইটা কেটে পড়ে গেছে।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. মোস্তাক আহমেদ রাত ৮টায় বণিক বার্তাকে বলেন, কোরবানি দিতে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে, ভেঙে কিংবা আঘাত পেয়ে সন্ধ্যা নাগাদ ৯০ জনের মতো ঢামেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। রগ টাকাসহ বেশি আঘাতপ্রাপ্ত কয়েকজনকে পঙ্গু হাসপাতালে স্থান্তান্তর করা হয়েছে।










