নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে কেউ কেউ বাঁকা ও অন্ধকার গলির পথে চলতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে কাজলার পাড় এলাকায় গতকাল এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। দলটির ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের নির্বাচনী কমিটি এ জনসভার আয়োজন করে।
জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা শুনতে পাচ্ছি, কেউ কেউ নিজেদের হেরে যাওয়ার ভয়ে বাঁকা অন্ধকার গলিপথে চলতে পারেন। আমরা নির্দিষ্ট কোনো দলকে বলছি না, ব্যক্তিকেও বলছি না। তবে আমরা আশা করব, জুলাইয়ের চেতনাকে উপলব্ধি করে এগুলো থেকে সরে আসবেন তারা। যদি না আসেন, মনে রাখবেন, জুলাই যোদ্ধারা ঘুমিয়ে যায়নি। তারা তাদের প্রথম কাজটি করেছে, দ্বিতীয় কাজের জন্য এখন প্রস্তুত।’
নিজের পূর্ববর্তী এক বক্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমার একটি বক্তব্য নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল, মহাসাগরে ঢেউ উঠেছিল। আমি বলেছিলাম, এ দেশের জনগণ এক জালিমকে বিদায় করে আরেক জালিমের হাতে দেশ তুলে দিতে চায় না। আমার সেই কথা কি আজ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে?’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া তরুণ ভোটারদের ভোটকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে আগুন জ্বলবে বলে জনসভায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘তাদের ভোটে কেউ হাত দেবেন না। হাত দিলে আগুন জ্বলবে। সন্ত্রাসীরা বলত, “আমার ভোট আমি দেব, তোমারটাও আমি দেব।” ওইদিন এখন শেষ। আপনারটা আপনি দেন, আমারটা আমি দেব। এবার তা-ই হবে, ইনশাআল্লাহ।’
ভোটের দিন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘আগামী ১২ তারিখে কোনো দুর্বৃত্ত ভোটের বাক্সে হাত দিতে এলে জনগণের সহায়তায় তাদের হাত গুঁড়িয়ে দেয়া হবে। বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম দেখতে চাই না। জনগণের অর্থে কেনা অস্ত্র থেকে জনগণের ওপরই গুলি ছোড়া হবে, জামায়াত এটি দেখতে চায় না। ফ্যাসিবাদের সব জট কেটে দিতে হলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে “হ্যাঁ” বলতে হবে। “হ্যাঁ” মানে আজাদি, “না” মানে গোলামি।’
দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশী শক্তির হস্তক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘সম্প্রতি কিছু উৎপাত দেখতে পাচ্ছি এখান থেকে ওখান থেকে। বাংলাদেশের মানুষ যখন মুক্তির সন্ধানে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, তখন আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপ করছেন। আমরা তাদের প্রতি বিনয়ের সঙ্গে শক্ত কণ্ঠে অনুরোধ জানাব, মেহেরবানি করে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আর নাক গলাতে আসবেন না। এতদিন নাক গলিয়ে যে তরল পদার্থ বের হয়েছে, তা টিস্যু দিয়ে সামলে নেন। আর নাক গলানো আমরা দেখতে চাই না। বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে বিশ্বদরবারে দাঁড়াবে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশে এখন নতুন একটি পেশা খুব ভালো চলছে। সেটি হলো চাঁদাবাজি। যারা এ পেশায় যুক্ত, তারা যেন ভালো পথে ফিরে আসেন। তাদের হালাল রুজির ব্যবস্থা করা হবে। এ পথ যদি তারা বাদ না দেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে লাল কার্ড দেখানো হবে।’
নির্বাচনী এ জনসভায় জামায়াতের আমির ঢাকা-৪ আসনের দলীয় প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ও ঢাকা-৫ আসনের কামাল হোসেনের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন এবং তাদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে এলাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান। জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির আবদুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে জনসভায় আরো বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, এবি পার্টি এবং ঢাকা-৪ ও ৫ আসনের বিভিন্ন ওয়ার্ড জামায়াতের নেতারা।










