কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল বেদীতে আজ অজ্ঞাতনামা দুটি মরদেহ পড়ে ছিল। রোববার (৪ আগস্ট) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীরা নিহত এ দুই মরদেহসহ আরো তিনটি মরদেহ শহীদ মিনার এলাকায় নিয়ে এসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তিনটি মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে শাহবাগে গেলে শহীদ মিনারের মূল বেদীতে মরদেহ দুটি পড়ে থাকে। রাত ৯টা পর্যন্ত মরদেহ দুটি সেখানে পড়ে ছিল।

রাত ৯টায় পুলিশ আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দিলে একটি মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। আরেকটি মরদেহ পুলিশ নিয়ে যায়। রোববার বিকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দুটি মরদেহ শহীদ মিনারের মূল বেদীতে পড়ে থাকে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকালে আন্দোলনকারীরা পাঁচটি মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এর মধ্যে তিনটি মরদেহ নিয়ে আন্দোলনকারীদের জমায়েত শাহবাগ অভিমুখে রওনা দেয়। আন্দোলনকারীদের মিছিলটি শাহবাগ পর্যন্ত গেলে সেখানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। তখন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে,৷থেমে থেমে রাত ৯টা পর্যন্ত এ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে।

এ সময় শহীদ মিনার এলাকায় আন্দোলনকারীদের একটি গ্রুপ অংশ নেয়, সেখানে রাত ৯টা পর্যন্ত মরদেহ ঘিরে থাকে আন্দোলনকারীরা।৷ রাত ৯টায় মরদেহ দুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়ার উদ্যাগ নিলে শহীদ মিনার এলাকায় সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। পরে সেখান থেকে আন্দোলনকারীদের একজন তুহিন খান বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা বিক্ষোভ মিছিলসহ মরদেহ নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের দিকে আসতে শুরু করলে পুলিশ ধাওয়া দেয় আমাদের। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী মোতাহার হোসেন ভবন পর্যন্ত এলে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা শুরু করে। তখন আমরা একটি মরদেহ নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে এলেও আরেকটি মরদেহ আমাদের সহপাঠীদের কাছ থেকে পুলিশ ছিনিয়ে নেয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে পৌছানো মরদেহটি মীরহাজিরবাগ আদর্শ স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র রেজাউল করিমের। রেজাউল করিমের বয়স ১৬ বছর। রাজধানীর শনির আখড়া এলাকায় আহত হন তিনি। মীরহাজিরবাগ এলাকার ইলেকট্রিশিয়ান আল আমিন ও রাশেদা বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান রেজাউল করিম।