মানবাধিকার,
ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিতে রাষ্ট্রকাঠামো ঢেলে সাজানোর
উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। আজ
রোববার (৪ আগস্ট) সকালে রাজধানীতে ধানমন্ডির টিআইবি কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনে টিআইবির
নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন,
সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, অহিংস, যৌক্তিক ও অরাজনৈতিক কোটা সংস্কার আন্দোলন তথা বৈষম্যবিরোধী
ছাত্র আন্দোলনের ওপর চাপিয়ে দেয়া সহিংসতায় দুই সপ্তাহ ধরে দেশে চলছে নজিরবিহীন ও
নির্মম হত্যাকাণ্ড, ধারাবাহিক বেআইনি নির্যাতন ও নিপীড়ন। সকল অসত্য বয়ান ও
মিথ্যাচার বন্ধ করে দেশবাসীর মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করাসহ ১১ দাবি জানান তিনি।
টিআইবির দাবিগুলো
হচ্ছে—
১.নজিরবিহীন ও
নির্মম মানবাধিকার লঙ্ঘনের দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে
জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিতে জাতিসংঘের উদ্যোগে সম্পূর্ণ
স্বাধীন কমিশন গঠন করতে হবে।
২. ভবিষ্যতে এ ধরনের
মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনের
শাসনের সঙ্গে জড়িত সকল প্রতিষ্ঠান তথা সার্বিক রাষ্ট্রকাঠামো ঢেলে সাজাবার জন্য
জাতীয় ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
৩. আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক সকল শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি ও নির্মম
নিপীড়ন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। আটক সকল সমন্বয়ক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিককে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে
হবে ও সকল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
৪. বেআইনি,
নির্বিচার ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং
অতিরিক্ত,
অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহারসহ বিভিন্নভাবে
যারা নির্মম হতাহতের জন্য দায়ী এবং যাদের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বপ্নকে
পদদলিত করে নজিরবিহীন এই নির্মমতা সংগঠিত হয়েছে তাদের সকলকে চিহ্নিত করে
দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
৫. জাতির ইতিহাসে
নজিরবিহীন এই অধ্যায়ে নিহত-আহত সকলের বয়স ও পেশা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ তালিকা অবিলম্বে
প্রকাশ করতে হবে।
৬. আহত সকলের
পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা, পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন নিশ্চিত করতে
হবে।
৭. হতাহত সকলের
পরিবারের জন্য সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুনর্বাসন
প্রক্রিয়া প্রকাশ করতে হবে।
৮. প্রিন্ট,
ইলেকট্রিক ও ডিজিটালসহ সকল গণমাধ্যমের প্রতি প্রত্যক্ষ ও
পরোক্ষ সব ধরনের হুমকি, নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার এবং বন্ধ করতে হবে। ইন্টারনেট ও সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ওপর সকল প্রকার নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে হবে।
৯. সহিংসতা দমন বা
অন্য কোনো অজুহাতে, ভিন্নমত দমনের হঠকারি-প্রক্রিয়া থেকে এখনই সরে আসতে হবে। ভিন্নমত,
বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পরিপন্থী
নজরদারিভিত্তিক ভীতিকর পরিবেশ, তথা সকল জনগণের জন্য নিরাপত্তাহীনতার বোধ সৃষ্টির সংস্কৃতি
পরিত্যাগ করতে হবে।
১০. এই মুহূর্ত থেকে
সকল অসত্য বয়ান ও মিথ্যাচার বন্ধ করে সকল দেশবাসীর মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
১১. দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য
সহনশীলতার ফাঁকাবুলির সংস্কৃতি পরিহার করে সকল প্রকার—বিশেষ করে উচ্চ পর্যায়ের
দুর্নীতির বিচারহীনতা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।










