যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীন ১৬০ কিলোমিটার কপোতাক্ষ নদ খননে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলন কমিটির নেতারা। গতকল যশোর শহরের নীল রতন ধর সড়কের অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলন কমিটি। সেখানে তিন দফা দাবি জানিয়ে বলা হয়, কপোতাক্ষ খননে সরকারের অর্থ অপচয় করা হচ্ছে। আর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনগণকে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলন ঝিকরগাছা কমিটির আহ্বায়ক আবদুর রহিম। এ সময় তিনি দাবি করেন, বর্তমানে কপোতাক্ষ নদ খননের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রথম পর্যায়ে সাতক্ষীরার পাখিমারা বিলে টিআরএম ও খনন কর্মসূচির ফলে নদের প্রবাহ ও তালার নিম্নাংশের গভীরতা বৃদ্ধি পায়। নদীতে ট্রলার চলাচল শুরু হয়। যশোর অংশে জলাবদ্ধতা দূর হয়। জনজীবনে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে। কিন্তু সরকার ও পাউবোর কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতার কারণে পাখিমারা বিলে টিআরএম প্রকল্প অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। তালা থেকে মোহনা পর্যন্ত নদ ভরাট হয়ে পূর্বাবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।

কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলন শুরু থেকে দাবি করে আসছে উজানে নদের সংযোগ ও মোহনায় পলিমুক্ত রাখার সঙ্গে পানি প্রবাহ নির্ভর করে। সে কারণে উজানে সংযোগ দিতে হবে এবং ভাটিতে টিআরএম চালু রেখে নদের নাব্যতা রক্ষা করতে হবে। ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ পরিকল্পনায় তালার নিম্নাংশে পর্যায়ক্রমে টিআরএম করার প্রস্তাব করা হলেও দীর্ঘস্থায়ী লুটপাট অব্যাহত রাখতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পাউবো ও পাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় যোগসাজশে প্রকল্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

এক্ষেত্রে সরকার নীরব। সরকারের গৃহীত নীতির বিরুদ্ধেই সরকারি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাচ্ছে। সরকারের এ দ্বিচারিতায় দুর্ভোগের শিকার স্থানীয়রা। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ৫০০ কোটি টাকা লোপাটও নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমরা সংশ্লিষ্টদের এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করে এলেও সরকার কর্ণপাত করছে না। এতে সংকট আরো গভীর হচ্ছে।

কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের নেতারা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যালয়ে এ কাজের অসংগতি, প্রকল্পের সাইন বোর্ড প্রদানে টালবাহানা, খননের পরিমাণ স্থানীয় জনগণকে অবহিত না করা, কাজের তদারকি ও সহযোগিতায় জনগণকে সংশ্লিষ্ট না করা এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপেক্ষা করা সংক্রান্ত অভিযোগ উত্থাপন করেন, কিন্তু পাউবোর কর্মকর্তাদের টনক নড়ছে না।

খননের দৈর্ঘ্য-প্রস্থের মাপের বিষয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের অগোচরে রাখা হচ্ছে। খনন করা মাটি পাড়ের পরিবর্তে ফেলা হচ্ছে নদের গর্ভে, যা বর্ষায় নদীকে আবারো ভরাট করে ফেলবে। ফলে কপোতাক্ষ ক্রমেই রূপান্তরিত হচ্ছে। আইন লঙ্ঘন করে সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করা হচ্ছে। 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রস্তাবিত উজানে নদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পাখিমারা বিলে টিআরএম চালু করতে হবে। প্রকল্প এলাকায় কাজের তদারকির জন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, আন্দোলনকারী সংস্থা ও স্থানীয় জনগণকে সংশ্লিষ্ট করে কমিটি করতে হবে।

যদি তা না করা হয় তাহলে সরকারের বরাদ্দকৃত টাকা অপচয় লুটপাট শুধু নয়, কপোতাক্ষ নদকে প্রকারান্তরে হত্যা করা হবে। একই সঙ্গে এসব লুটপাট বন্ধের দাবিতে আগামী ২০ নভেম্বর আমরা সরকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করব।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ইকবাল কবীর জাহিদ, অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দীকী, জিল্লুর রহমান ভিটু, তসলিমুর রহমান, সুভাশ চন্দ্র প্রমুখ।