নির্বাচনী জোট করলেও প্রার্থীদের নিজ নিজ দলের প্রতীকেই ভোটে অংশ নেয়ার বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সংশোধনীর বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি। ধারাটি আগের মতোই রাখার দাবি জানিয়ে গতকাল দলটির একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক করে এ-সংক্রান্ত চিঠি দেয়।

বৈঠক শেষে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনসংক্রান্ত আইন আরপিওর ২০ ধারায় যে সংশোধনী এনেছে ইসি, তার সঙ্গে একমত নয় বিএনপি। রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্ত ছাড়াই এ সংশোধন তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে বলেও মনে করছি আমরা। এক্ষেত্রে আগের নিয়ম ফেরত চায় বিএনপি। আরপিওর ২০ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করতে আমরা ইসির পাশাপাশি আইন উপদেষ্টাকেও জানাব।

জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে এর আগে শরিক দলের প্রতীকেও ভোট করতে পারতেন অন্য দলের প্রার্থীরা। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন আরপিওর এ ধারায় সংশোধন এনে খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। পরে গত বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সংশোধিত আরপিও অধ্যাদেশ অনুমোদন দেয়া হয়। এটি এখন রাষ্ট্রপতির সইয়ের অপেক্ষায়।

আরপিওর ২০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বলা হয়েছে, জোট করলেও ভোট করতে হবে দলীয় প্রতীকে। এরই মধ্যে বিভিন্ন দল নিজেদের বিবেচনায় জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করেছে, তারা নিজেদের কিংবা জোটভুক্ত অন্য কোনো দলের প্রতীক নিয়ে ভোট করেছে বলে উল্লেখ করেন ইসমাইল জবিউল্লাহ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা গণতান্ত্রিক অধিকার। অতীতে এ নিয়ে কোনো জটিলতা, সমস্যা সৃষ্টি হয়নি। কোনো দলের পক্ষ থেকে এ বিধান সংশোধনের দাবি এসেছে বলেও তাদের জানা নেই।’

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভিমত চাওয়া হয়। বিএনপি আরপিওর বিভিন্ন অনুচ্ছেদে সংশোধন প্রস্তাবে মতপ্রকাশ করতে গিয়ে বলে, আরপিওর ২০ নম্বর অনুচ্ছেদ, অর্থাৎ দল বা জোটের প্রতীক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরিবর্তনের প্রস্তাবের সঙ্গে তারা একমত পোষণ করে না। বিষয়টি যথাসময়ে নির্বাচন কমিশন, ঐকমত্য কমিশন ও সরকারকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বর্তমান সরকারের উচ্চ পর্যায়ে, উপদেষ্টা পর্যায়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের আলোচনাকালে আরপিওর ২০ নম্বর অনুচ্ছেদে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না বলে আশ্বস্তও করা হয়েছিল।’