ঢাকায় ফ্রান্সের ‘দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি’তে যোগ দিতে আসার পথে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের নারায়ণগঞ্জে আটকে দিয়েছে পুলিশ। নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের নামিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসগামী সাধারণ যাত্রীরা।

সম্প্রতি ফ্রান্স ইস্যুতে ঢাকায় দেশটির দূতাবাস ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেয় হেফাজতে ইসলাম। আজ সোমবার সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে মিছিল নিয়ে ঢাকায় প্রবেশের চেষ্টা করে হেফাজতের কর্মীরা। 

হেফাজতে ইসলামের নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি আব্দুল আউয়াল অভিযোগ করেন, নারায়ণগঞ্জে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় পুলিশ ব্যারেকেট সৃষ্টি করে বাধা প্রদান করে। এসময় দূরপাল্লার অনেক গাড়ি থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেয়া হয়।

এদিকে আজ সোমবার সকালে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চরম দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী যাত্রীরা। দূরপাল্লার গাড়ি আটকে দেয়ার ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এসময় অনেককে পায়ে হেঁটেও কর্মস্থলে যোগ দিতে দেখা যায়। সকাল থেকেই সাইনবোর্ড এলাকায় ঢাকায় হেফাজতের সমাবেশে অংশগ্রহণের জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক জড়ো হয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। সমাবেশ শেষে দোয়া পরিচালনা করা হয়। পরে পুলিশ অনুরোধ করে যার যার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এছাড়াও অনেকে পায়ে হেঁটেই ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যান। হেফাজতের সমাবেশে অংশগ্রহণের জন্য কয়েকজন নেতাকে ঢাকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।

এর আগে গত শুক্রবার জুমার পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সামনে ‘সম্মিলিত ইসলামি দলগুলো’ ব্যানারে এক সমাবেশ থেকে ২ নভেম্বর ফ্রান্সের দূতাবাস ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করেন হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর সভাপতি নূর হোসাইন কাসেমী। এ কর্মসূচিতে যোগ দিতে আজ সকাল থেকেই রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকায় বিভিন্ন জেলা থেকে জড়ো হন হেফাজতের কর্মীরা।  

পরে দূতাবাসের উদ্দেশ্যে মিছিল বের হলে শান্তিনগর মোড়ে এসে তারা পুলিশের ব্যারিকেডে আটকে যান তারা। পরে সেখানেই অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন বিক্ষোভকারীরা। সমাবেশে হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরী এবং ঢাকা মহানগর সভাপতি নূর হোসাইন কাসেমী একটি মিনি ট্রাকে চড়ে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তৃতা দেন।